ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে মাস্কের স্টারলিংককে লাইসেন্স না দিতে আরএসএস শাখা সংগঠনের আহ্বান

অর্থনীতি ডেস্ক: মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের পরিচালিত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবাকে বাণিজ্যিক লাইসেন্স না দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের অর্থনৈতিক শাখা স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। একইসঙ্গে ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি এবং দেশের সরকারের বিরুদ্ধে ইলন মাস্কের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও একপেশে মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আম্বানিকে কটাক্ষ করে তাকে একচেটিয়া বাজার রক্ষার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন। এছাড়া ভারতে স্টারলিংকের লাইসেন্স পেতে দেরি হওয়ার কারণেও তিনি বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

ভারতীয় টেলিকম খাত ও স্যাটেলাইট লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি সকলের জন্য সমান এবং পুরোপুরি নিরপেক্ষ রয়েছে বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এদিকে মুকেশ আম্বানির কোম্পানি রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে ইলন মাস্কের এই ধরনের অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের জাতীয় সহ-আহ্বায়ক অশ্বনী মহাজন জানিয়েছেন, স্টারলিংকের লাইসেন্স আবেদনটি এখনও ঝুলে আছে এবং তা চূড়ান্তভাবে খারিজও করা হয়নি।

জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে স্টারলিংক কোম্পানির কাছে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চাওয়া হলেও তারা তার যথাযথ জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। উল্টো মাস্ক ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আচরণ করেছেন বলে দাবি করেন অশ্বনী মহাজন। সংগঠনের মতে, স্টারলিংক হয়তো নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করতে অপারগ এবং তারা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সরকারের ওপর লাইসেন্স পাওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। লেজার সংযোগের মাধ্যমে বিদেশি অবকাঠামোয় ইন্টারনেট ট্রাফিক যাওয়ার আশঙ্কায় স্টারলিংকের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে অনেক সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার আবশ্যকতা দেখা দেয়। কিন্তু স্যাটেলাইটভিত্তিক এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক দেশীয় গেটওয়ে এড়িয়ে গেলে আইনি নজরদারি চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে স্টারলিংককে ব্যবসা করার অনুমতি না দিলেও ভারত সরকারের কোনো ভুল হবে না বলে মনে করে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক মিত্র দেশের কাছেও একটি শক্ত বার্তা পৌঁছাবে যে দেশীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত পুরোপুরি আপসহীন।

জনপ্রিয়

এক মঞ্চে জেমস ও হাসান, আসছে ‘রক এন রিদম’ কনসার্ট

ভারতে মাস্কের স্টারলিংককে লাইসেন্স না দিতে আরএসএস শাখা সংগঠনের আহ্বান

প্রকাশিত ০১:২২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের পরিচালিত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবাকে বাণিজ্যিক লাইসেন্স না দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের অর্থনৈতিক শাখা স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। একইসঙ্গে ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি এবং দেশের সরকারের বিরুদ্ধে ইলন মাস্কের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও একপেশে মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আম্বানিকে কটাক্ষ করে তাকে একচেটিয়া বাজার রক্ষার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন। এছাড়া ভারতে স্টারলিংকের লাইসেন্স পেতে দেরি হওয়ার কারণেও তিনি বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

ভারতীয় টেলিকম খাত ও স্যাটেলাইট লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি সকলের জন্য সমান এবং পুরোপুরি নিরপেক্ষ রয়েছে বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এদিকে মুকেশ আম্বানির কোম্পানি রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে ইলন মাস্কের এই ধরনের অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের জাতীয় সহ-আহ্বায়ক অশ্বনী মহাজন জানিয়েছেন, স্টারলিংকের লাইসেন্স আবেদনটি এখনও ঝুলে আছে এবং তা চূড়ান্তভাবে খারিজও করা হয়নি।

জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে স্টারলিংক কোম্পানির কাছে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চাওয়া হলেও তারা তার যথাযথ জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। উল্টো মাস্ক ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আচরণ করেছেন বলে দাবি করেন অশ্বনী মহাজন। সংগঠনের মতে, স্টারলিংক হয়তো নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করতে অপারগ এবং তারা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সরকারের ওপর লাইসেন্স পাওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। লেজার সংযোগের মাধ্যমে বিদেশি অবকাঠামোয় ইন্টারনেট ট্রাফিক যাওয়ার আশঙ্কায় স্টারলিংকের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে অনেক সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার আবশ্যকতা দেখা দেয়। কিন্তু স্যাটেলাইটভিত্তিক এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক দেশীয় গেটওয়ে এড়িয়ে গেলে আইনি নজরদারি চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে স্টারলিংককে ব্যবসা করার অনুমতি না দিলেও ভারত সরকারের কোনো ভুল হবে না বলে মনে করে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক মিত্র দেশের কাছেও একটি শক্ত বার্তা পৌঁছাবে যে দেশীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত পুরোপুরি আপসহীন।