অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুটি সূচক মূল্যস্ফীতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে দেশের মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা চলাকালীন এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
একই সঙ্গে আইএমএফ চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত সংস্করণে এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৩ শতাংশ দেওয়া হলেও, নতুন মূল্যায়নে তা আরও ১ দশমিক ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। আইএমএফের এই নতুন হিসাব অনুযায়ী, সংস্থাটির এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অনুমানের চেয়েও কম।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, কোভিডের মহামারীকালে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। আইএমএফের এই সর্বশেষ পূর্বাভাস যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে তা গত প্রায় চার দশকের মধ্যে দেশের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির রেকর্ড হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেಷণে দেখা যায়, এর আগে ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ১১ শতাংশ, যার পর থেকে এমন শ্লথ গতি আর দেখা যায়নি।
এর আগে বিশ্বব্যাংক গত অক্টোবরে প্রকাশিত তাদের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলেছিল, যদিও তারা মূল্যস্ফীতির সুনির্দিষ্ট হার উল্লেখ করেনি। অন্যদিকে, এডিবি গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে ওঠার পূর্বাভাস দিয়েছিল। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।




































