অর্থনীতি ডেস্ক: ডলারপ্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি মিললেও দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে তার কোনো ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। উল্টো শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি আমদানি কমার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের নিচে আটকে রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতিও নেমেছে তলানিতে। অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো নতুন বিনিয়োগের স্থবিরতা ও দুর্বল দশাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-অগাস্ট সময়ে দেশে ৫০ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। এছাড়া শিল্প খাতের অন্যান্য মূলধনি পণ্যের আমদানিও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সামগ্রিক আমদানি ব্যয় কিছুটা বাড়লেও উদ্যোক্তারা কলকারখানা স্থাপন কিংবা সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মতে, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং মুনাফার অনিশ্চয়তার কারণে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না তারা। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগ তো দূরের কথা, চলমান কারখানাগুলো টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও ব্যবসা ও বিনিয়োগের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন যে ব্যবসায়ীরা এখন বাজারে টিকে থাকার জন্যই লড়াই করছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে চার দশমিক ৭৫ শতাংশে, যা আগের মাসগুলোতেও পাঁচ শতাংশের নিচেই ছিল। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের আশঙ্কা, বিনিয়োগের এই দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা শেষ পর্যন্ত শিল্প উৎপাদন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক সরকারের মেধার সময় পার হলেও বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক চাহিদা পুরোপুরি না ফেরায় এই হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


































