ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

তৌফিক ভাইকে নিয়ে একটি নির্মোহ বিশ্লেষণের প্রয়াস

গণমাধ্যম ডেস্ক: সম্প্রতি লন্ডনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রয়াণের পর তাকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের মূল্যায়ন ও আলোচনা দেখা গেছে। অনেকেই তার সাংবাদিকতা জীবনের নানা দিক নিয়ে আবেঘন লেখালেখি করলেও কিছু ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরও বিরূপ মন্তব্য করেছেন। একজন মৃত ব্যক্তির প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ সমাজের মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্রই ফুটিয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে তৌফিক ভাইয়ের অবদান ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে একটি নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বর্তমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আগের রূপ ‘বিডিনিউজ’ নামে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালের দিকে। দেশের একদল উৎসাহী সাংবাদিক অনলাইন মিডিয়ার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা ভেবে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গুলশানের একটি বাসায় নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং পরবর্তীতে বিশিষ্ট সাংবাদিক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এর কার্যক্রম শুরু হয়। সূচনার পর সংবাদমাধ্যমগুলো এর পরিবেশিত সংবাদ সাবস্ক্রাইব করতে শুরু করলেও একটি রাজনৈতিক সংবাদের জেরে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল।

বিএনপি সরকারের আমলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে বিডিনিউজের প্রকাশিত একটি সংবাদ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। কে. এম. হাসানকে নিয়ে প্রকাশিত ওই সংবাদের জেরে প্রথম আলোসহ প্রায় সব শীর্ষ গণমাধ্যম বিডিনিউজের সাবস্ক্রিপশন বাতিল করে দেয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির আয় মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং সাংবাদিকদের বেতন বকেয়া পড়ার পাশাপাশি এটি বন্ধের উপক্রম হয়। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বিবিসি বাংলার সাবেক প্রডিউসার তৌফিক ইমরোজ খালিদী এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আলমগীর হোসেনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তৌফিক ইমরোজ খালিদী বিডিনিউজের যাবতীয় দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং একটি সফটওয়্যারের কোম্পানির মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেন। মূল সংবাদে থাকা এই প্রেক্ষাপটগুলো প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে তৌফিক ভাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার নেতৃত্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে দেশের সংবাদজগতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল।

জনপ্রিয়

পথহারা ইউনাইটেডকে হারাল আতলেতিকো মাদ্রিদ

তৌফিক ভাইকে নিয়ে একটি নির্মোহ বিশ্লেষণের প্রয়াস

প্রকাশিত ০২:৫২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গণমাধ্যম ডেস্ক: সম্প্রতি লন্ডনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রয়াণের পর তাকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের মূল্যায়ন ও আলোচনা দেখা গেছে। অনেকেই তার সাংবাদিকতা জীবনের নানা দিক নিয়ে আবেঘন লেখালেখি করলেও কিছু ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরও বিরূপ মন্তব্য করেছেন। একজন মৃত ব্যক্তির প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ সমাজের মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্রই ফুটিয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে তৌফিক ভাইয়ের অবদান ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে একটি নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বর্তমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আগের রূপ ‘বিডিনিউজ’ নামে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালের দিকে। দেশের একদল উৎসাহী সাংবাদিক অনলাইন মিডিয়ার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা ভেবে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গুলশানের একটি বাসায় নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং পরবর্তীতে বিশিষ্ট সাংবাদিক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এর কার্যক্রম শুরু হয়। সূচনার পর সংবাদমাধ্যমগুলো এর পরিবেশিত সংবাদ সাবস্ক্রাইব করতে শুরু করলেও একটি রাজনৈতিক সংবাদের জেরে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল।

বিএনপি সরকারের আমলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে বিডিনিউজের প্রকাশিত একটি সংবাদ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। কে. এম. হাসানকে নিয়ে প্রকাশিত ওই সংবাদের জেরে প্রথম আলোসহ প্রায় সব শীর্ষ গণমাধ্যম বিডিনিউজের সাবস্ক্রিপশন বাতিল করে দেয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির আয় মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং সাংবাদিকদের বেতন বকেয়া পড়ার পাশাপাশি এটি বন্ধের উপক্রম হয়। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বিবিসি বাংলার সাবেক প্রডিউসার তৌফিক ইমরোজ খালিদী এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আলমগীর হোসেনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তৌফিক ইমরোজ খালিদী বিডিনিউজের যাবতীয় দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং একটি সফটওয়্যারের কোম্পানির মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেন। মূল সংবাদে থাকা এই প্রেক্ষাপটগুলো প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে তৌফিক ভাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার নেতৃত্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে দেশের সংবাদজগতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল।