অপরাধ ডেস্ক: রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে মারধরের শিকার ব্যক্তি এবং মারধরকারী উভয়কেই শনাক্ত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাদের উভয়কেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হাসপাতালের সামনে সড়কের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং কান ধরে ওঠবস করানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে অপরজনকে মারধর করছেন এবং অভিযোগ তুলছেন যে তিনি তরুণীর গায়ে হাত দিয়েছেন। যে তরুণীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, তিনি জানান যে ওই ব্যক্তি তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছিলেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ওই তরুণী তার আত্মীয় খালিদ হাসানকে ডেকে আনেন যিনি ঘটনাস্থলে এসে মারধর চালান।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মারধরকারী ৩৫ বছর বয়সি গ্রাফিকস ডিজাইনার খালিদ হাসানকে আটক করে রমনা জোনের বিশেষ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শুনানি শেষে তাকে পনেরো দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায়। অপরদিকে, নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে ৪৮ বছর বয়সি আবদুল্লাহ আল মাসুদকে প্রথমে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে মাসুদকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে তাকে বিশেষ আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক এক মাসের কারাদণ্ড দেন। আটক আবদুল্লাহ আল মাসুদের কোনো নির্দিষ্ট পেশা নেই এবং তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল হাইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।






































