ঢাকা ০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রণকৌশল বদলেছে ইরান, নতুন করে জড়াতে পারে একাধিক পক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের মুখে নিজেদের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে তেহরান। দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার হামলা হলে ইরানের পাল্টা জবাব হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক, ধ্বংসাত্মক ও অনিশ্চিত। সংশোধিত সামরিক কৌশল, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং নতুন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য এই নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তাতে ইয়েমেনের হুতি বাহিনী ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো একাধিক পক্ষ জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ সাদেক আলিজাদেহ ও অন্যান্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আইআরজিসির মহাকাশ, নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারে থাকা অস্ত্রগুলোর উন্নয়ন ঘটিয়ে সেগুলোকে আরও দ্রুত সক্রিয় করার উপযোগী করেছে। এ ছাড়া মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে হাইপারসনিক গতির জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নতুন হামলা হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট ঘাঁটি নয়, বরং ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফা এবং দিমোনা পারমাণবিক স্থাপনার মতো দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে ইরান।

ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, পূর্বের তুলনায় আরও ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা তৈরি করেছে তেহরান। পাশাপাশি আইআরজিসির মুখপাত্র ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলদেশীয় ইন্টারনেট কেব্লকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে তারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সীমিত অভিযানও বিশ্বে বড় ধরনের জ্বালানিসংকট তৈরি করতে পারে। এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের বোমা হামলার প্রস্তুতি নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মুখে তা স্থগিত করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান পুরোপুরি বাতিল না হয়ে বরং আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে যাতে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো যায়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালাবে না। তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তেহরানকে তাদের শর্তযুক্ত সমঝোতা চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভূরাজনীতির এই জটিল সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয়

সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে নেই নরকিয়া

রণকৌশল বদলেছে ইরান, নতুন করে জড়াতে পারে একাধিক পক্ষ

প্রকাশিত ১১:৩৭:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের মুখে নিজেদের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে তেহরান। দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার হামলা হলে ইরানের পাল্টা জবাব হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক, ধ্বংসাত্মক ও অনিশ্চিত। সংশোধিত সামরিক কৌশল, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং নতুন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য এই নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তাতে ইয়েমেনের হুতি বাহিনী ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো একাধিক পক্ষ জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ সাদেক আলিজাদেহ ও অন্যান্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আইআরজিসির মহাকাশ, নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারে থাকা অস্ত্রগুলোর উন্নয়ন ঘটিয়ে সেগুলোকে আরও দ্রুত সক্রিয় করার উপযোগী করেছে। এ ছাড়া মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে হাইপারসনিক গতির জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নতুন হামলা হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট ঘাঁটি নয়, বরং ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফা এবং দিমোনা পারমাণবিক স্থাপনার মতো দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে ইরান।

ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, পূর্বের তুলনায় আরও ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা তৈরি করেছে তেহরান। পাশাপাশি আইআরজিসির মুখপাত্র ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলদেশীয় ইন্টারনেট কেব্লকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে তারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সীমিত অভিযানও বিশ্বে বড় ধরনের জ্বালানিসংকট তৈরি করতে পারে। এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের বোমা হামলার প্রস্তুতি নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মুখে তা স্থগিত করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান পুরোপুরি বাতিল না হয়ে বরং আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে যাতে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো যায়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালাবে না। তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তেহরানকে তাদের শর্তযুক্ত সমঝোতা চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভূরাজনীতির এই জটিল সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।