ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ডোনাল্ড মিলার: গল্প বলার শিল্প

ফিচার ডেস্ক: জনপ্রিয় আমেরিকান লেখক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান স্টোরিব্র্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ডোনাল্ড মিলার গল্প বলার শিল্পের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নানা গবেষণা ও বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এনামুল আহসান অনূদিত তার একটি গবেষণামূলক প্রকাশনায় গল্পকে কেবল সাহিত্য বা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং মানবজীবনে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্লেটো থেকে শুরু করে আধুনিক গবেষক পর্যন্ত সবাই গল্প গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করলেও মিলার এটি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগের উপায় বাতলে দিয়েছেন। কীভাবে আকর্ষণীয় গল্প তৈরি করে মানুষের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলা যায়, তা নিয়েই এই প্রকাশনার মূল বিষয়বস্তু আবর্তিত হয়েছে।

গল্প শোনার সময় মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউরি হ্যাসনের গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। তার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাধারণ কোনো দৃশ্য বা ভিডিওর তুলনায় কোনো সুন্দর গল্প বা মুভি দেখার সময় মানুষের মস্তিষ্কের কর্টেক্স অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। এই বৈজ্ঞানিক সত্যতা প্রমাণ করে যে মানুষের মনে গল্প শোনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং এটি মস্তিষ্ককে সচল রাখতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসের বিপুল আয় কিংবা বিশাল অঙ্কের ডলারে কাল্পনিক আইডিয়া বা কাহিনীর বিক্রি এটাই প্রমাণ করে যে মানুষ গল্প শুনতে ও উপভোগ করতে কতটা ভালোবাসে।

গল্প কেবল মানুষের মনে আনন্দই জোগায় না, বরং এটি জটিল কোনো ধারণা বা বিষয়কে খুব সহজেই বোধগম্য করে তুলতে পারে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে গল্প শ্রোতার মনে একধরনের উপলব্ধির জন্ম দেয়, যার মাধ্যমে মানুষ যেকোনো বার্তার মূল সারমর্ম সহজে ধরতে পারে। বর্তমান সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই শক্তির বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং বিপণন বা মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, চটকদার বিজ্ঞাপনের চেয়ে একটি সুন্দর ও স্পষ্ট গল্পের বিজ্ঞাপন মানুষের হৃদয়ে দ্রুত পৌঁছায় এবং সহজেই ভাইরাল হয়।

তবে গল্প বলার এই জাদুকরী ক্ষমতার যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি এর নেতিবাচক ব্যবহারও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এটি যেমন ক্লান্ত মনকে শান্ত করতে এবং মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা বাড়াতে সাহায্য করে, তেমনি ভুল মানুষের হাতে পড়লে পুরো সংস্কৃতি ধ্বংস করার ক্ষমতাও রাখে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অনেক ভয়ংকর ও দুর্নীতিপরাণ স্বৈরশাসকও অসাধারণ গল্প বা প্রোপাগান্ডা তৈরি করে ক্ষমতার শিখরে আরোহণ করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, গল্প হলো এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা মানবজীবনকে যেমন আলোকিত করতে পারে, তেমনি এর অপব্যবহার ডেকে আনতে পারে মারাত্মক পরিণতি।

জনপ্রিয়

সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে নেই নরকিয়া

ডোনাল্ড মিলার: গল্প বলার শিল্প

প্রকাশিত ০৩:২২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: জনপ্রিয় আমেরিকান লেখক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান স্টোরিব্র্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ডোনাল্ড মিলার গল্প বলার শিল্পের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নানা গবেষণা ও বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এনামুল আহসান অনূদিত তার একটি গবেষণামূলক প্রকাশনায় গল্পকে কেবল সাহিত্য বা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং মানবজীবনে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্লেটো থেকে শুরু করে আধুনিক গবেষক পর্যন্ত সবাই গল্প গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করলেও মিলার এটি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগের উপায় বাতলে দিয়েছেন। কীভাবে আকর্ষণীয় গল্প তৈরি করে মানুষের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলা যায়, তা নিয়েই এই প্রকাশনার মূল বিষয়বস্তু আবর্তিত হয়েছে।

গল্প শোনার সময় মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউরি হ্যাসনের গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। তার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাধারণ কোনো দৃশ্য বা ভিডিওর তুলনায় কোনো সুন্দর গল্প বা মুভি দেখার সময় মানুষের মস্তিষ্কের কর্টেক্স অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। এই বৈজ্ঞানিক সত্যতা প্রমাণ করে যে মানুষের মনে গল্প শোনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং এটি মস্তিষ্ককে সচল রাখতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসের বিপুল আয় কিংবা বিশাল অঙ্কের ডলারে কাল্পনিক আইডিয়া বা কাহিনীর বিক্রি এটাই প্রমাণ করে যে মানুষ গল্প শুনতে ও উপভোগ করতে কতটা ভালোবাসে।

গল্প কেবল মানুষের মনে আনন্দই জোগায় না, বরং এটি জটিল কোনো ধারণা বা বিষয়কে খুব সহজেই বোধগম্য করে তুলতে পারে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে গল্প শ্রোতার মনে একধরনের উপলব্ধির জন্ম দেয়, যার মাধ্যমে মানুষ যেকোনো বার্তার মূল সারমর্ম সহজে ধরতে পারে। বর্তমান সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই শক্তির বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং বিপণন বা মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, চটকদার বিজ্ঞাপনের চেয়ে একটি সুন্দর ও স্পষ্ট গল্পের বিজ্ঞাপন মানুষের হৃদয়ে দ্রুত পৌঁছায় এবং সহজেই ভাইরাল হয়।

তবে গল্প বলার এই জাদুকরী ক্ষমতার যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি এর নেতিবাচক ব্যবহারও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এটি যেমন ক্লান্ত মনকে শান্ত করতে এবং মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা বাড়াতে সাহায্য করে, তেমনি ভুল মানুষের হাতে পড়লে পুরো সংস্কৃতি ধ্বংস করার ক্ষমতাও রাখে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অনেক ভয়ংকর ও দুর্নীতিপরাণ স্বৈরশাসকও অসাধারণ গল্প বা প্রোপাগান্ডা তৈরি করে ক্ষমতার শিখরে আরোহণ করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, গল্প হলো এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা মানবজীবনকে যেমন আলোকিত করতে পারে, তেমনি এর অপব্যবহার ডেকে আনতে পারে মারাত্মক পরিণতি।