আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্বৈরশাসকের পতনের পর সার্বিয়া ও ব্রাজিলের সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রমাণ করে যে নির্বাচনি জয়, কার্যকর শাসনক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্জন। সার্বিয়ায় সংসদ নির্বাচনে এবং ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় পরিবর্তন এলেও দেশ দুটির রাজনৈতিক ইতিহাস ও ব্যবস্থা একেবারেই আলাদা। স্বৈরশাসনের পতন ঘটানো একটি তাৎক্ষণিক ঘটনা হলেও, স্বৈরাতন্ত্রের পুনরুৎপাদন রোধ করা অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল একটি রাজনৈতিক কাজ। সার্বিয়ার মিলোশেভিচ পতন কিংবা ব্রাজিলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, কেবল বিজয়ী হওয়া বা শাসক বদলানোই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা দেয় না।
সার্বিয়ায় দুই বছরের আন্দোলন এবং নভি সাদের রেলস্টেশনে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনার জেরে আলেকসান্দার ভুচিচের রাজনৈতিক জোট পরাজিত হয়েছে। রয়টার্সের ২৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল মূলত দুর্নীতি ও জবাবদিহির দাবিকে কেন্দ্র করে। তবে একটি অবকাঠামোগত বিপর্যয় থেকে গড়ে ওঠা আন্দোলন নতুন সরকারের সীমাহীন অধিকার বা বৈধতা তৈরি করে না। ভোটাররা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিলেও স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া ও স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নাগরিকদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে না।
অন্যদিকে ব্রাজিলের রাজনীতিতে সামরিক শাসনের অবসান এবং লুলার উত্থানের ইতিহাস ভিন্ন ধরনের সতর্কতা দেয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুলা নির্বাচনে জয়ী হলেও কংগ্রেসে ডানপন্থিদের শক্ত অবস্থান তার সরকারের জন্য বড় একটি সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্টের ম্যান্ডেট বা জয় মানেই আইন পাস কিংবা সংস্কার বাস্তবায়নের নিশ্চিত পথ নয়। ভোটের ব্যবধান বা বিজয়ের পরও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিজয়ী ঐক্যের সীমা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্য থাকলেও সম্পদ বণ্টনে সবার স্বার্থ এক থাকে না। কর, মজুরি ও শ্রম অধিকারের প্রশ্নে বড় ব্যবসায়ী ও কম মজুরির শ্রমিকের দাবি ভিন্ন হওয়ায় কেবল জনবান্ধব সরকার বললেই শ্রেণিবিভাজন দূর হয় না। এছাড়া ভূরাজনীতি বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাইরের শক্তির সঙ্গে বিরোধ বা ঘনিষ্ঠতা কোনো সরকারের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চরিত্রের নিশ্চয়তা দেয় না। সার্বিয়া ও ব্রাজিলের এই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশকেও অতীতের নিপীড়নের বিচার এবং বর্তমান ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার পথ খুঁজতে হবে।




































