ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

ইসরায়েলের ভোটের দিনে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিনে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিল করেছেন ফিলিস্তিনিরা। হেবরনসহ বিভিন্ন স্থানে চলা ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বাড়িঘর উচ্ছেদ এবং কঠোর অবরোধের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ইসরায়েলি সেনারা এ সময় স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান ও স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

নির্বাচনের অজুহাতে পশ্চিম তীরের অধিকাংশ শহর, জনপদ ও তল্লাশি চৌকি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এর ফলে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়াও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, সাম্প্রতিক অভিযানে তিন হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সেখানে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের এই নির্বাচনে কোনো ভোটাধিকার নেই।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাস্তুচ্যুত নুরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন যে, ইসরায়েলে নির্বাচন চললেও ফিলিস্তিনিরা মানুষ কি না এবং তাদের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার অধিকার রয়েছে কি না। আরেক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা সানা সালমান জানান, এই নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে না। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েলে গণতন্ত্রের উৎসব চললেও ফিলিস্তিনিদের মৌলিক মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট উভয়েই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধী। নির্বাচনের দিন পশ্চিম তীর ও গাজায় কঠোর লকডাউন বলবৎ রেখে সব স্থলপথ ও বসতিতে ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এর আগে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, সম্মিলিত শাস্তি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং পুরো এলাকা জনশূন্য করার হুমকি জাতিগত নিধনের উদ্বেগ তৈরি করে।

জনপ্রিয়

অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় অভিযান: জামিনে মুক্ত ৩ নারী

ইসরায়েলের ভোটের দিনে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিল

প্রকাশিত ০২:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিনে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিল করেছেন ফিলিস্তিনিরা। হেবরনসহ বিভিন্ন স্থানে চলা ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বাড়িঘর উচ্ছেদ এবং কঠোর অবরোধের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ইসরায়েলি সেনারা এ সময় স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান ও স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

নির্বাচনের অজুহাতে পশ্চিম তীরের অধিকাংশ শহর, জনপদ ও তল্লাশি চৌকি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এর ফলে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়াও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, সাম্প্রতিক অভিযানে তিন হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সেখানে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের এই নির্বাচনে কোনো ভোটাধিকার নেই।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাস্তুচ্যুত নুরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন যে, ইসরায়েলে নির্বাচন চললেও ফিলিস্তিনিরা মানুষ কি না এবং তাদের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার অধিকার রয়েছে কি না। আরেক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা সানা সালমান জানান, এই নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে না। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েলে গণতন্ত্রের উৎসব চললেও ফিলিস্তিনিদের মৌলিক মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট উভয়েই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধী। নির্বাচনের দিন পশ্চিম তীর ও গাজায় কঠোর লকডাউন বলবৎ রেখে সব স্থলপথ ও বসতিতে ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এর আগে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, সম্মিলিত শাস্তি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং পুরো এলাকা জনশূন্য করার হুমকি জাতিগত নিধনের উদ্বেগ তৈরি করে।