ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলন এবং তীব্র জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। রাজধানী বেলগ্রেডে অবস্থিত নিজ বাসভবনের সামনে সমবেত সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। প্রায় নয় বছরের দীর্ঘ শাসনামলে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি করেন তিনি। তার এই পদত্যাগের ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

সার্বিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী এই গণআন্দোলন তীব্র রূপ নেয় যখন দেশটির নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে মর্মান্তিকভাবে ষোল জন মানুষের মৃত্যু হয়। সংস্কার কাজের পর এই স্টেশনটিকে দেশের অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হলেও, বিরোধীরা একে বর্তমান সরকারের এক দশকের বেশি সময়ের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেন। এর পরেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পাশাপাশি দেশের শ্রমিক, কৃষকসহ নানা পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন এবং দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার পক্ষ থেকে পুলিশ মোতায়েন করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে তৃতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না থাকায় ভুচিচ এখন ভিন্ন রাজনৈতিক ছক কষছেন। তিনি আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এদিকে সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই অনুযায়ী আগামী অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচনের অল্প কিছুদিন পরেই নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সংসদের স্পিকার এবং প্রগ্রেসিভ পার্টির নেত্রী আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে পদত্যাগের পূর্বে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে শিক্ষার্থী ও দলীয় কর্মীসহ প্রায় ঊনপঞ্চাশজন ব্যক্তিকে ক্ষমা ঘোষণা করেন, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল। আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল এবং পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ইউরোপিয়ান সার্বিয়া।

জনপ্রিয়

প্রিজন ভ্যান থেকে পালাল ‘পিচ্চি রাজা’

এবার ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

প্রকাশিত ১১:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলন এবং তীব্র জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। রাজধানী বেলগ্রেডে অবস্থিত নিজ বাসভবনের সামনে সমবেত সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। প্রায় নয় বছরের দীর্ঘ শাসনামলে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি করেন তিনি। তার এই পদত্যাগের ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

সার্বিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী এই গণআন্দোলন তীব্র রূপ নেয় যখন দেশটির নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে মর্মান্তিকভাবে ষোল জন মানুষের মৃত্যু হয়। সংস্কার কাজের পর এই স্টেশনটিকে দেশের অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হলেও, বিরোধীরা একে বর্তমান সরকারের এক দশকের বেশি সময়ের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেন। এর পরেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পাশাপাশি দেশের শ্রমিক, কৃষকসহ নানা পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন এবং দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার পক্ষ থেকে পুলিশ মোতায়েন করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে তৃতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না থাকায় ভুচিচ এখন ভিন্ন রাজনৈতিক ছক কষছেন। তিনি আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এদিকে সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই অনুযায়ী আগামী অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচনের অল্প কিছুদিন পরেই নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সংসদের স্পিকার এবং প্রগ্রেসিভ পার্টির নেত্রী আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে পদত্যাগের পূর্বে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে শিক্ষার্থী ও দলীয় কর্মীসহ প্রায় ঊনপঞ্চাশজন ব্যক্তিকে ক্ষমা ঘোষণা করেন, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল। আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের গড়া নতুন রাজনৈতিক দল এবং পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ইউরোপিয়ান সার্বিয়া।