আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত সরকারের নতুন গোপনীয়তা আইন বা প্রাইভেসি ল-কে চ্যালেঞ্জ করে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করেছে শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও মিডিয়া গ্রুপগুলো। সম্প্রতি শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানিতে মিডিয়া গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনের একটি বিধান অনুযায়ী সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং অনেক সংবাদমাধ্যম চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা সরকার বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। সর্বশেষ বিতর্কিত এই আইনি লড়াইয়ে ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসহ একুশটি প্রভাবশালী প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিয়েছে। তাদের এই সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মটি হলো ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ডিএনপিএ।
আদালতে শুনানিকালে ডিএনপিএ-এর আইনজীবী মাধবী গোরাডিয়া দিভান বলেন, নতুন এই আইন খবরের মৌলিক ধারণাই সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। তিনি আদালতকে আরও জানান, কোনো অপরাধী বা দুর্নীতিবাজ কখনোই তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের অনুমতি দেবে না, যা কার্যত এক ধরনের পূর্ব-সেন্সরশিপ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাজ্যের মতো এই আইনে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কোনো লিখিত ছাড় রাখা হয়নি বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশকদের আশঙ্কা, এই আইন কেবল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং পুরোনো প্রতিবেদন মুছে ফেলতে এবং সাংবাদিকদের গোপন তথ্যের উৎস প্রকাশে বাধ্য করবে। আগামী মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ভারতের সুপ্রিম আদালত। আগামী বছর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।





































