ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সংসদীয় যোগাযোগ বাড়াতে মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক Logo যে কারণে সাইবার পুলিশের দ্বারস্থ রাশমিকা-বিজয় Logo উখিয়ায় ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ২০০ মিটার এলাকা ঘেরার পরামর্শ Logo ‘ব্যলন দ’র ও ব্যক্তিগত ট্রফি অনেক জিতবে ইয়ামাল’ Logo মুশফিককে ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ Logo কুবিতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের দাবি Logo যে কারণে মিরপুর টেস্টে নেই মুশফিক Logo নোবিপ্রবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ক্যারিয়ার সেমিনার Logo ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে নতুন রূপ দিচ্ছে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন’ Logo সার্বিয়া ও ব্রাজিলে নির্বাচনি বিজয় এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রশ্ন

‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে নতুন রূপ দিচ্ছে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের জনমত পরিবর্তন এবং ইসরাইল সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনায় ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্র আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মী ও আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাহমুদ খলিল। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এই আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। গ্রেপ্তার ও আটকের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে নিজের স্মৃতিকথা নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসা উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তার নতুন বই নো ল্যান্ড টু স্ট্যান্ড অন: নোটস ফ্রম ডিটেনশন নিয়ে আলোচনা করা হয়। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খলিল দাবি করেন, মার্কিন জনগণ এখন ফিলিস্তিনিদের সমান মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে এবং তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসছে। শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভাকে তিনি একটি বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর মুছে ফেলার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে, খলিলের ক্যাম্পাসে ফেরার বিরোধিতাকারী ইহুদি সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়ায় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায় যে তারা ভিন্নমতের মধ্যে সংলাপের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষকদের একাডেমিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকারকে সমর্থন করলেও আলোচকদের কোনো মতামতকে বিশ্ববিদ্যালয় সমর্থন করে না বলে জানানো হয়। মূলত বিগত আন্দোলন চলাকালীন নিরাপত্তাঝুঁকি ও বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি বিক্ষোভ দমনে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করেন খলিল।

ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপক চাপ ও বহিষ্কারের হুমকি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে এই আন্দোলনের সুফল দেখছেন খলিল। প্রগতিশীল প্রার্থীদের নির্বাচনি সাফল্যকে এই পরিবর্তনের বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি মিশিগানের সিনেট প্রার্থী ডা. আবদুল আল-সায়েদ ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির নাম বলেন। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার চেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এই সংগ্রাম কেবল তার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অধিকার নয়, বরং দেশটির সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লড়াই বলেও মন্তব্য করেন এই অধিকারকর্মী।

জনপ্রিয়

সংসদীয় যোগাযোগ বাড়াতে মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে নতুন রূপ দিচ্ছে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন’

প্রকাশিত ১১:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের জনমত পরিবর্তন এবং ইসরাইল সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনায় ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্র আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মী ও আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাহমুদ খলিল। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এই আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। গ্রেপ্তার ও আটকের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে নিজের স্মৃতিকথা নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসা উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তার নতুন বই নো ল্যান্ড টু স্ট্যান্ড অন: নোটস ফ্রম ডিটেনশন নিয়ে আলোচনা করা হয়। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খলিল দাবি করেন, মার্কিন জনগণ এখন ফিলিস্তিনিদের সমান মানুষ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে এবং তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আসছে। শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভাকে তিনি একটি বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর মুছে ফেলার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে, খলিলের ক্যাম্পাসে ফেরার বিরোধিতাকারী ইহুদি সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়ায় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায় যে তারা ভিন্নমতের মধ্যে সংলাপের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষকদের একাডেমিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকারকে সমর্থন করলেও আলোচকদের কোনো মতামতকে বিশ্ববিদ্যালয় সমর্থন করে না বলে জানানো হয়। মূলত বিগত আন্দোলন চলাকালীন নিরাপত্তাঝুঁকি ও বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি বিক্ষোভ দমনে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করেন খলিল।

ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপক চাপ ও বহিষ্কারের হুমকি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে এই আন্দোলনের সুফল দেখছেন খলিল। প্রগতিশীল প্রার্থীদের নির্বাচনি সাফল্যকে এই পরিবর্তনের বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি মিশিগানের সিনেট প্রার্থী ডা. আবদুল আল-সায়েদ ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির নাম বলেন। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার চেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এই সংগ্রাম কেবল তার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অধিকার নয়, বরং দেশটির সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লড়াই বলেও মন্তব্য করেন এই অধিকারকর্মী।