জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকালে দেশটির সাথে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন খাতে মোট চারটি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে। টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই তথ্য গণমাধ্যমকে জানান। সাম্প্রতিক এই দ্বিপক্ষীয় সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিভিন্ন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হয়েছে। সফর চলাকালীন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতাপত্রগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে টহল জাহাজ প্রদানের একটি অনুদান চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় জাপান বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ইয়েন বা প্রায় ১৩ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার প্রদান করবে। এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ উন্নয়নের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দুই দেশের কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নেও আলাদাভাবে একাধিক সহযোগিতার স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পাশাপাশি, জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও পৃথক সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সমঝোতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সফরকালে বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য বিশাল অংকের ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান সরকার। এর মধ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৫৮৮ বিলিয়ন ইয়েন এবং উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩ হাজার ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এই তহবিল দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পরিমণ্ডলকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সস্ত্রীক চার দিনের সরকারি সফরে গত ২৬ অক্টোবর জাপানে গিয়েছিলেন।





































