জাতীয় ডেস্ক: জাপান সফরকালে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের সরকারি সফরে গিয়ে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাথে টোকিওতে একটি ফলপ্রসূ শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার ক্ষেত্রে দুই নেতার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানতেই অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে বিগ-বি উদ্যোগকে অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় উভয় দেশ। এছাড়া জাপানের পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের অধীনে জরুরি আর্থিক সহায়তা এবং আগামী পাঁচ বছরে বেসরকারি খাতে বড় অংকের বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়।
বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান যে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে জাপান বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে জানান যে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আমল থেকেই দুই দেশের মৈত্রী ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়েছে। তিনি এই অংশীদারত্বকে দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুযোগে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এই অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা, উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা কামনা করা হয়। সরকারের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




































