ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo এল ক্লাসিকোর হার ভুলে বার্সেলোনার ছয় গোলের উৎসব Logo সাজেকে আবারও অবরোধ ঘোষণা Logo নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সমর্থন দেবে আরব দলগুলো Logo পাবজি নিয়ে নেটফ্লিক্সের সিরিজ, পরিচালনায় ডনাল্ড গ্লোভার Logo রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা রাজনৈতিক আচরণ নয় Logo সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ গ্রেপ্তার Logo দুই দিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে রাজি ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে যে ৭ শর্ত Logo এমবাপের জন্য খারাপ লাগা থাকলেও, কেইনের জন্য খুশি মরিনিয়ো Logo দুয়ারে মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসে ক্ষমতার পরিবর্তন কীভাবে বদলে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের নীতি? Logo এলডিসি থেকে উত্তরণ পিছিয়ে যাওয়া: রাজনৈতিক সংকটে গতিহীন অর্থনীতি

দুই দিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে রাজি ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে যে ৭ শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। প্রথমে সাত দিনের পরিকল্পনা থাকলেও কাতারের অনুরোধে তা কমিয়ে দুই দিনে নামাতে সম্মত হয়েছে তেহরান।

নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে এই পথ উন্মুক্ত করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী এই শর্তগুলোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছেন।

ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা তহবিল ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো। এ ছাড়া লেবাননে সংঘাত বন্ধ, ওমানের সঙ্গে নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতি এবং সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে এসব শর্তে।

আলোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্যও তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো সংঘাত মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক চাপের মুখে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি চালুর এই নতুন উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় একটি নতুন মোড় নিতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন এই সাতটি শর্ত কীভাবে মূল্যায়ন করে, তার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ। যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান সহজ হবে বলে মনে করছে তেহরান।

জনপ্রিয়

এল ক্লাসিকোর হার ভুলে বার্সেলোনার ছয় গোলের উৎসব

দুই দিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে রাজি ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে যে ৭ শর্ত

প্রকাশিত ০৯:৩৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। প্রথমে সাত দিনের পরিকল্পনা থাকলেও কাতারের অনুরোধে তা কমিয়ে দুই দিনে নামাতে সম্মত হয়েছে তেহরান।

নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং দ্বিতীয় দিনে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে এই পথ উন্মুক্ত করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী এই শর্তগুলোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছেন।

ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা তহবিল ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো। এ ছাড়া লেবাননে সংঘাত বন্ধ, ওমানের সঙ্গে নির্ধারিত নতুন নৌপথের স্বীকৃতি এবং সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে এসব শর্তে।

আলোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্যও তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো সংঘাত মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক চাপের মুখে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি চালুর এই নতুন উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় একটি নতুন মোড় নিতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন এই সাতটি শর্ত কীভাবে মূল্যায়ন করে, তার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ। যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান সহজ হবে বলে মনে করছে তেহরান।