ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo শরীফুল রাজকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে আইনি নোটিশ Logo এল ক্লাসিকোর হার ভুলে বার্সেলোনার ছয় গোলের উৎসব Logo সাজেকে আবারও অবরোধ ঘোষণা Logo নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সমর্থন দেবে আরব দলগুলো Logo পাবজি নিয়ে নেটফ্লিক্সের সিরিজ, পরিচালনায় ডনাল্ড গ্লোভার Logo রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা রাজনৈতিক আচরণ নয় Logo সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ গ্রেপ্তার Logo দুই দিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে রাজি ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে যে ৭ শর্ত Logo এমবাপের জন্য খারাপ লাগা থাকলেও, কেইনের জন্য খুশি মরিনিয়ো Logo দুয়ারে মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসে ক্ষমতার পরিবর্তন কীভাবে বদলে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের নীতি?

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সমর্থন দেবে আরব দলগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী জোটকে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে দল দুটির। এর ফলে দীর্ঘসময়ের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মোসাওয়া সেন্টারের পরিচালক জাফর ফারাহ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম নামের দুটি আরব দল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছে আইজেনকটের নাম সুপারিশ করতে পারে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও আইজেনকটের বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম যৌথভাবে ১৯টি আসন লাভ করায় সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে ৬১টি আসনের প্রয়োজন হয়। ফলে দুই জোটের পক্ষ থেকেই আরব দলগুলোকে নিজেদের পক্ষে টানতে সমঝোতা ও দর-কষাকষি শুরু হয়েছে। তবে জয়েন্ট লিস্টের শরিক দল বালাদের তিনজন সংসদ সদস্য এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানাতে পারেন।

বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আইজেনকট চারটি শর্ত নির্ধারণ করেছেন যা নিয়ে আলোচনা চলছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মেনে নেওয়া। ফারাহর মতে, এসব শর্ত মূলত আরব দলগুলোকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলার কৌশল হলেও অধিকাংশ বিষয় আগেই আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। এদিকে, ডানপন্থী দলগুলোর চরম বিরোধিতার কারণে এমন যৌথ সরকার গঠন বেশ কঠিন হবে এবং এর ফলে বড় ধরণের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ইহুদি ও আরব নাগরিকদের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সরকার গঠনের দাবিতে সম্প্রতি তেল আবিব, জেরুজালেম ও হাইফাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়া সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই যৌথ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে, লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোকে ইসরায়েলবিরোধী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরব দলগুলোর অনানুষ্ঠানিক সমর্থনে একটি সংখ্যালঘু বিরোধী সরকার গঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জনপ্রিয়

শরীফুল রাজকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে আইনি নোটিশ

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সমর্থন দেবে আরব দলগুলো

প্রকাশিত ১১:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী জোটকে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে দল দুটির। এর ফলে দীর্ঘসময়ের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মোসাওয়া সেন্টারের পরিচালক জাফর ফারাহ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম নামের দুটি আরব দল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছে আইজেনকটের নাম সুপারিশ করতে পারে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও আইজেনকটের বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম যৌথভাবে ১৯টি আসন লাভ করায় সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে ৬১টি আসনের প্রয়োজন হয়। ফলে দুই জোটের পক্ষ থেকেই আরব দলগুলোকে নিজেদের পক্ষে টানতে সমঝোতা ও দর-কষাকষি শুরু হয়েছে। তবে জয়েন্ট লিস্টের শরিক দল বালাদের তিনজন সংসদ সদস্য এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানাতে পারেন।

বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আইজেনকট চারটি শর্ত নির্ধারণ করেছেন যা নিয়ে আলোচনা চলছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মেনে নেওয়া। ফারাহর মতে, এসব শর্ত মূলত আরব দলগুলোকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলার কৌশল হলেও অধিকাংশ বিষয় আগেই আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। এদিকে, ডানপন্থী দলগুলোর চরম বিরোধিতার কারণে এমন যৌথ সরকার গঠন বেশ কঠিন হবে এবং এর ফলে বড় ধরণের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ইহুদি ও আরব নাগরিকদের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সরকার গঠনের দাবিতে সম্প্রতি তেল আবিব, জেরুজালেম ও হাইফাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়া সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই যৌথ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যদিকে, লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোকে ইসরায়েলবিরোধী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরব দলগুলোর অনানুষ্ঠানিক সমর্থনে একটি সংখ্যালঘু বিরোধী সরকার গঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।