আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে ভোটাররা কংগ্রেসের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর এবং স্থানীয় স্তরের কর্মকর্তাদের নির্বাচিত করবেন। মার্কিন শাসনব্যবস্থা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে কংগ্রেসে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও প্রেসিডেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত হন না। তবে এই নির্বাচন আইন পাস ও বাজেট অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ঐতিহাসিক ধারা অনুযায়ী মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের ওপর এক ধরনের জনভোট হিসেবে কাজ করে থাকে। বিগত একশ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অধিকাংশ নির্বাচনেই প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারিয়েছে। বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা অসন্তুষ্ট বিরাজ করছে। এর ফলে ডেমোক্র্যাট দল প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, সেনেটের নির্বাচনি লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের ক্ষমতা ধরে রাখার ভালো সুযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ আলাদা দলের হাতে চলে গেলে মার্কিন রাজনীতিতে বিভক্ত কংগ্রেসের পরিস্থিতি তৈরি হবে। এমনটি ঘটলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কর নীতি পরিবর্তন, বাজেট পাস করা কিংবা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তবে আইন পাসের ক্ষেত্রে বাধা আসলেও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থেকে যায়। তিনি চাইলে নিজেই বিদেশ থেকে আসা পণ্যের শুল্ক বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বা বাণিজ্যের নীতি নির্ধারণ করতে পারবেন। এর জন্য মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
কংগ্রেসে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে রাজস্ব নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিধি পরিষদ চলে গেলে কর্পোরেট কর কমানো বা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর মতো নীতিগুলো তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে। তাছাড়া বাজেট ঘাটতি, ঋণ সীমা নিয়ে অচলাবস্থা এবং নীতিগত বিরোধ শেয়ার বাজার ও বন্ড মার্কেটকে অস্থির করে তুলতে পারে। সামগ্রिक বিবেচনায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মার্কিন প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



















