ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

গ্রিসে আটককেন্দ্র থেকে পালালো ১০ বাংলাদেশি, ৭ জন ফের আটক

প্রবাস ডেস্ক: গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের একটি আশ্রয়প্রার্থী আটককেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া ১০ বাংলাদেশির মধ্যে সাতজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। গত রোববার বিকেলে দেশটির সেরেস অঞ্চলের ক্লেইদি গ্রামের সিনতিকি এলাকায় অবস্থিত ওই নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার কেন্দ্র থেকে তারা পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কেন্দ্রটিতে ওই ব্যক্তিদের উপস্থিতি না পাওয়ার পরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পলায়নের ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে সাতজনকে আটক করা সম্ভব হলেও বাকি তিনজন এখনও পলাতক রয়েছেন। এই তিনজনকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওই আশ্রয়শিবিরটি মূলত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অস্থায়ী আবাসনের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং পলায়নের দিন পর্যন্ত সেখানে মোট ১২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী আটক ছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই আটককেন্দ্রে নানা ধরনের উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।

আটককেন্দ্রটির নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত ঘাটতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। সেরেস পুলিশ কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইয়ানিস কুনিওস গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান যে কেন্দ্রটির বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবগত করা হয়েছে। তিনি সেখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ এবং দুর্বল নিরাপত্তার বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। এই কর্মকর্তা অবিলম্বে আটককেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, সেখানে ঘটে চলা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব সমস্যার কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ দিন দিন আরও বাড়ছে।

গ্রিসের ওই আটককেন্দ্র থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পলায়নের এই ঘটনা দেশের ভেতরে অভিবাসী ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলোকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আবাসস্থল থেকে এভাবে একসঙ্গে ১০ জনের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট মহলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ অনুভূত হচ্ছে।

জনপ্রিয়

শাহরুখের ফোন নম্বর জানেন কজনা

গ্রিসে আটককেন্দ্র থেকে পালালো ১০ বাংলাদেশি, ৭ জন ফের আটক

প্রকাশিত ০২:০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রবাস ডেস্ক: গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের একটি আশ্রয়প্রার্থী আটককেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া ১০ বাংলাদেশির মধ্যে সাতজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। গত রোববার বিকেলে দেশটির সেরেস অঞ্চলের ক্লেইদি গ্রামের সিনতিকি এলাকায় অবস্থিত ওই নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার কেন্দ্র থেকে তারা পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কেন্দ্রটিতে ওই ব্যক্তিদের উপস্থিতি না পাওয়ার পরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পলায়নের ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে সাতজনকে আটক করা সম্ভব হলেও বাকি তিনজন এখনও পলাতক রয়েছেন। এই তিনজনকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওই আশ্রয়শিবিরটি মূলত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অস্থায়ী আবাসনের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং পলায়নের দিন পর্যন্ত সেখানে মোট ১২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী আটক ছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই আটককেন্দ্রে নানা ধরনের উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।

আটককেন্দ্রটির নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত ঘাটতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। সেরেস পুলিশ কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইয়ানিস কুনিওস গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান যে কেন্দ্রটির বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবগত করা হয়েছে। তিনি সেখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ এবং দুর্বল নিরাপত্তার বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। এই কর্মকর্তা অবিলম্বে আটককেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, সেখানে ঘটে চলা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব সমস্যার কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ দিন দিন আরও বাড়ছে।

গ্রিসের ওই আটককেন্দ্র থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পলায়নের এই ঘটনা দেশের ভেতরে অভিবাসী ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলোকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আবাসস্থল থেকে এভাবে একসঙ্গে ১০ জনের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট মহলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ অনুভূত হচ্ছে।