রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করার পর নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির সাবেক নেত্রী সামান্তা শারমিন। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি তরুণদের নেতৃত্বে একটি বিভাজনমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের মূল প্রয়োজন ছিল এমন একটি রাজনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করা যা মানুষকে বিভক্ত না করে জাতীয় ঐক্যে আবদ্ধ করবে। তবে প্রচলিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে এনসিপিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সেই প্রাথমিক সম্ভাবনা এখন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামান্তা শারমিন তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে জানান যে, কোনো একটি দল বা কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ম্লান হয়ে যাওয়ার অর্থ জনগণের মূল রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু নয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো এমন একটি শক্তির গভীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যা মানুষকে বিভক্ত না করে বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অঙ্গীকারে একত্র করবে। এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তি কোনো বিশেষ মতাদর্শ বা একক রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করবে না, বরং সেখানে ভিন্নমত ও ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের সমান অংশগ্রহণ থাকবে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই সাবেক নেত্রী। তাঁর মতে, কোনো নির্দিষ্ট পরাশক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মমর্যাদাসম্পন্ন রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না। ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করলে যেমন তার কঠোর বিরোধিতা করতে হবে, ঠিক তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই জাতীয় স্বার্থের মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।
এছাড়াও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন সামান্তা শারমিন। তিনি দেশীয় পুঁজির বিকাশ, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসের জন্য সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার তাগিদ অনুভব করেন। পোস্টের শেষ অংশে তিনি জানান যে, দেশের তরুণদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিভাজনের রাজনীতি এড়িয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তোলা এবং তিনি এই মহৎ প্রচেষ্টায় আগ্রহীদের সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।



































