ক্যাম্পাস ডেস্ক: রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুনেসাকে তাঁর পদ থেকে অপসারণের দাবিতে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার দিনভর আন্দোলন ও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাত ১টার দিকেও ক্যাম্পাসে এই বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। ক্যান্টিনের বিভিন্ন অনিয়ম এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর সিট বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতে পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অসুস্থ হয়ে পড়া অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পূজার আগে অডিটোরিয়ামে একটি অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার অজুহাতে কলেজ কর্তৃপক্ষ দুই ছাত্রীর আবাসিক হলের সিট বাতিল করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা প্রার্থনা করলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের কাছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা অডিটোরিয়ামের বিল দাবি করে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। এই আর্থিক দাবি ও অযৌক্তিক শাস্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা দিনভর আন্দোলন শুরু করেন এবং অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আন্দোলন চলাকালীন রাতে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তবে শিক্ষার্থীদের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেসা দাবি করেন যে আন্দোলনকারীরা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীরা রাতের অনুষ্ঠান ভোর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তিনি নমনীয়ও হয়েছিলেন। কলেজ পরিচালনার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বিল পরিশোধের কথা বলা হয়েছে বলে তিনি জানান। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১১টার দিকে কলেজের ভেতরে প্রবেশ করে অধ্যক্ষকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শোকজ করা এবং অধ্যক্ষ পদত্যাগের লিখিতপত্র না দেওয়া পর্যন্ত সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা। এছাড়া হামলায় মদদ দেওয়া শিক্ষক ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার আল্টিমেটাম দেন তারা। শুক্রবার নির্ধারিত সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার সময় আন্দোলন সাময়িকভাবে শিথিল রাখার ঘোষণা দিলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান শিক্ষার্থীরা।



































