ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাকৃবি ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ১০দিন ব্যাপি কুরআন শিক্ষা কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত Logo নোবিপ্রবিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদল সভাপতির ইফতার Logo যবিপ্রবিতে ইকসাসের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo কুবি বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে ২৮ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান Logo পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দায়িত্ব হস্তান্তর Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo হাবিপ্রবিস্থ বৃহত্তর রাজশাহী ছাত্র কল্যাণ সমিতির ইফতার মাহফিল ও আহবায়ক কমিটি ঘোষণা Logo সৌদিয়া বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বিডিটিকেটসে Logo রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো Logo কেন্দ্রীয়ভাবে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজন করবে যবিপ্রবি

সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে সৌদি আরবে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এটাই এখন এক বছরে কোনো একক দেশের সর্বোচ্চ জনশক্তি প্রেরণের রেকর্ড।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি সৌদি আরবে বসবাস ও কাজ করছেন। তারা প্রতি বছর দেশে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠান।

১৯৭০ এর দশক থেকে বাংলাদেশিরা সৌদি শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছেন এবং বর্তমানে তারা দেশটিতে সর্ববৃহৎ প্রবাসী জনগোষ্ঠী। গত বছরও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব।

 

২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট ১১ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছেন।

বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন বলেন, ‘গত বছর ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী সৌদি আরবে গেছেন। কোনো নির্দিষ্ট বছরে সৌদি আরব বা অন্য কোনো দেশে এত বেশি কর্মী আগে পাঠানো হয়নি।’

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর ১৬ শতাংশ বেশি কর্মী সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। চব্বিশে প্রায় ৬ লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি কাজের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

২০২৩ সালে বাংলাদেশে স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করে সৌদি আরব। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার দেশটিতে আরও বেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

এ কর্মসূচির লক্ষ্য সৌদি শ্রমবাজারে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নত করা। এ ছাড়া বাংলাদেশে সার্টিফিকেশন সেন্টারের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে, যাতে আরও বেশি কর্মীকে কম সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারে।

আশরাফ হোসেন বলেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ, দক্ষ ও নিয়মিত অভিবাসন বৃদ্ধি করা। গত এক বছরে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রফতানি বেড়েছে।

মাত্র তিন থেকে চার মাস আগেও আমরা মাসে এক হাজার দক্ষ কর্মীকে সার্টিফাই করতে পারতাম। এখন সারা দেশে ২৮টি (সৌদি অনুমোদিত) কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, যা মাসে প্রায় ৬০ হাজার দক্ষ কর্মীকে সৌদি শ্রমবাজারের জন্য সার্টিফাই করতে সক্ষম।’

গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে বিএমইটি খনিশিল্পে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। সৌদি আরবের এই খাতেও দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

আশরাফ হোসেন বলেন, ‘সৌদি আরব একটি তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় সেখানে দক্ষ খনি শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা সৌদি শ্রমবাজারের জন্য প্রকৃত অর্থেই দক্ষ কর্মী তৈরির চেষ্টা করছি।’

গত অক্টোবরে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ একটি নতুন কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে কর্মীদের সুরক্ষা, মজুরি পরিশোধ, কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবা আরও জোরদার করা হয়েছে।

এই চুক্তির ফলে নির্মাণ খাত ও সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০–এর বড় প্রকল্পগুলোতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয়

বাকৃবি ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ১০দিন ব্যাপি কুরআন শিক্ষা কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত

সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

প্রকাশিত ১১:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে সৌদি আরবে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এটাই এখন এক বছরে কোনো একক দেশের সর্বোচ্চ জনশক্তি প্রেরণের রেকর্ড।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি সৌদি আরবে বসবাস ও কাজ করছেন। তারা প্রতি বছর দেশে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠান।

১৯৭০ এর দশক থেকে বাংলাদেশিরা সৌদি শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছেন এবং বর্তমানে তারা দেশটিতে সর্ববৃহৎ প্রবাসী জনগোষ্ঠী। গত বছরও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব।

 

২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট ১১ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছেন।

বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন বলেন, ‘গত বছর ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী সৌদি আরবে গেছেন। কোনো নির্দিষ্ট বছরে সৌদি আরব বা অন্য কোনো দেশে এত বেশি কর্মী আগে পাঠানো হয়নি।’

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর ১৬ শতাংশ বেশি কর্মী সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। চব্বিশে প্রায় ৬ লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি কাজের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

২০২৩ সালে বাংলাদেশে স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করে সৌদি আরব। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার দেশটিতে আরও বেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

এ কর্মসূচির লক্ষ্য সৌদি শ্রমবাজারে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নত করা। এ ছাড়া বাংলাদেশে সার্টিফিকেশন সেন্টারের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে, যাতে আরও বেশি কর্মীকে কম সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারে।

আশরাফ হোসেন বলেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ, দক্ষ ও নিয়মিত অভিবাসন বৃদ্ধি করা। গত এক বছরে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রফতানি বেড়েছে।

মাত্র তিন থেকে চার মাস আগেও আমরা মাসে এক হাজার দক্ষ কর্মীকে সার্টিফাই করতে পারতাম। এখন সারা দেশে ২৮টি (সৌদি অনুমোদিত) কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, যা মাসে প্রায় ৬০ হাজার দক্ষ কর্মীকে সৌদি শ্রমবাজারের জন্য সার্টিফাই করতে সক্ষম।’

গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে বিএমইটি খনিশিল্পে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। সৌদি আরবের এই খাতেও দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

আশরাফ হোসেন বলেন, ‘সৌদি আরব একটি তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় সেখানে দক্ষ খনি শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা সৌদি শ্রমবাজারের জন্য প্রকৃত অর্থেই দক্ষ কর্মী তৈরির চেষ্টা করছি।’

গত অক্টোবরে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ একটি নতুন কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে কর্মীদের সুরক্ষা, মজুরি পরিশোধ, কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবা আরও জোরদার করা হয়েছে।

এই চুক্তির ফলে নির্মাণ খাত ও সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০–এর বড় প্রকল্পগুলোতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।