ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় কাজ করছে ‘হাবিপ্রবি মজার ইস্কুল Logo বাকৃবি কৃষিকন্যা হলে প্রশাসনের অভিযানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ ও হিটার ভাঙচুর, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ  Logo রপ্তানিযোগ্য আলু বাছাইয়ে স্মার্ট প্রযুক্তি: বাকৃবিতে অটোমেটেড পটেটো গ্রেডার নিয়ে কর্মশালা Logo জাবিতে মিডিয়া ও ইনফরমেশন লিটারেসি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo জুলাইকে বিএনপি গুরুত্ব দিতে চায় না : শিশির মনির   Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে কুবির বিজয়-২৪ হলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিভার জামিন Logo ফটোকপির দাম চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাবিতে দোকানির ওপর ছাত্রদল নেতার হামলা Logo কুবিতে ছাত্রদল নেতা ও কর্মীর একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ Logo কুবি সাইক্লিস্টের নেতৃত্বে ওমর – সুপ্রতীক

বাকৃবি কৃষিকন্যা হলে প্রশাসনের অভিযানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ ও হিটার ভাঙচুর, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কৃষিকন্যা হলের শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে রান্নার ইলেকট্রিক সরঞ্জামাদি (রাইসকুকার ও হিটার) জব্দ করেছে হল প্রশাসন। হল প্রভোস্টের নির্দেশে হাউজ টিউটর ও কর্মকর্তা কর্মচারী এসব সরঞ্জাম জব্দ করেছেন। সোমবার (৬এপ্রিল) বিকাল ৪টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

হল কর্তৃপক্ষের এহেন কার্যক্রমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা। হলের মূলভবনে মোট ১০টি রান্নাঘর থাকলেও সেখানে রান্নার কোনো পরিবেশ নেই। আবাসন সংকটের কারণে রান্নাঘরেও আসন দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে হলের ডায়নিংয়ে খাবারের মান এবং ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নিম্নমানের- এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী। এমতাবস্থায় নিজ নিজ কক্ষে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে রান্না করাই তাদের কাছে একমাত্র সমাধান, এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে কৃষিকন্যা হল পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রতিটি রান্নাঘরে ৪ থেকে ৬ জনকে আসন দেওয়া হয়েছে। মূলভবনের ১০ টি রান্নাঘরে মোট ৩৮জন অবস্থান করছেন।

হল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায় যে, শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০টি হিটার ও রাইসকুকার জব্দ করা হয়েছে এবং ১৫টি হিটার ভেঙে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষিকণ্যা হলের এবং কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের এক শিক্ষার্থী উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জব্দ করার নামে কিছু জিনিস নষ্ট করা হয়ছে। এই হিটার বা ইনডাকশনগুলো ভাঙা হলো, এগুলো তো হল থেকে দেওয়া হয় নাই। এগুলা যারা কিনেছে তারা তো নিজেদের টাকায় কিনেছে। হল কতৃপক্ষ ফাইন ও করতে পারতো। যন্ত্রগুলো এভাবে নষ্ট করার ক্ষতিপূরণ কি দেওয়া হবে আদৌ?

হলের সিট সংকট এবং ডাইনিং এর খাবারে দুর্দশার কথা উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করা শর্তে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে এই হল থেকে? এর শেষ কোথায়? আমাদের সঙ্গে এই হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা অবর্ণনীয়। আমরা সারা বছর পানির কষ্ট সহ্য করি, সিটের কষ্টও মেনে নিয়ে চলছি শুরু থেকে। এখন আমাদের খাবারের কষ্টও করতে হচ্ছে। এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? হলের ডাইনিংয়ের খাবার প্রায় সময়ই এমন থাকে যে তা মুখে নেওয়ার মতো থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন , হলে তীব্র সিট সংকট রয়েছে। চারজনের রুমে ৬ জন থাকতে হয়, রুমে পড়ার টেবিল রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। কিচেনের কোনো ব্যবস্থা নেই।হলের ডাইনিং এ খাওয়া সবসময় সবার জন্য সম্ভব হয় না। কোনোরকম কিচেনের ব্যবস্থা না থাকায়, বাধ্য হয়ে ছাত্রীরা রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। অন্য সব হলের তুলনায় অপ্রতুল সুবিধা সত্ত্বেও এধরণের অভিযান কোনোভাবেই কাম্য নয়।

নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক স্নাতকোত্তর এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের হিটার ও রাইসকুকার জব্দ করা হলেও হলের অফিসের ভেতরেই কর্মচারীদের প্রায় হিটার ব্যবহার করে রান্না করতে দেখা যায়। হলের ডাইনিংয়ের মানহীন খাবারের কারণে শিক্ষার্থীরা অনেকটা বাধ্য হয়েই বিকল্প উপায়ে রান্নার ব্যবস্থা করেছিল।

এ বিষয়ে কৃষিকন্যা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, আমি উপাচার্যের নির্দেশে হিটার, রাইসকুকার জব্দ করেছি। হলের বিদুৎ লাইনগুলো হিটারের জন্য না। এগুলা শুধু লাইট ফ্যান ব্যবহারের জন্য। হিটার ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দেয়। বারবার বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে স্থায়ী কর্মচারীও রাখতে হয়ছে।

আবাসন সংকট ও রান্নাঘরে সিট বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, আবাসন সংকট নিরসনে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কোনো কক্ষই ফাঁকা রাখা হয়নি এবং গতকালও সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। থিসিস শেষ হওয়া মাত্রই শূন্য আসনে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ফ্লোরে রান্নাঘর ছিলো। কিন্তু রান্নাঘরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অভিযোগের মাথায় রান্নাঘর বন্ধ করতে হয়েছে।

ডাইনিং ব্যবস্থাপনা ও খাবারের মান নিয়ে তিনি বলেন, আমি ডাইনিং ম্যানেজিং কমিটির সাথে যোগাযোগ রাখছি। ডাইনিং সমস্যার খুব দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য বলেছি। আমি হাউজ টিউটর একজন দায়িত্বে দিবো। হঠাৎ তদন্তের জন্য যাবে কোনো সমস্যা হলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ছাত্রীদের মাধ্যমেই ডাইনিং সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয়

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় কাজ করছে ‘হাবিপ্রবি মজার ইস্কুল

বাকৃবি কৃষিকন্যা হলে প্রশাসনের অভিযানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ ও হিটার ভাঙচুর, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ 

প্রকাশিত ০৪:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কৃষিকন্যা হলের শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে রান্নার ইলেকট্রিক সরঞ্জামাদি (রাইসকুকার ও হিটার) জব্দ করেছে হল প্রশাসন। হল প্রভোস্টের নির্দেশে হাউজ টিউটর ও কর্মকর্তা কর্মচারী এসব সরঞ্জাম জব্দ করেছেন। সোমবার (৬এপ্রিল) বিকাল ৪টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

হল কর্তৃপক্ষের এহেন কার্যক্রমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা। হলের মূলভবনে মোট ১০টি রান্নাঘর থাকলেও সেখানে রান্নার কোনো পরিবেশ নেই। আবাসন সংকটের কারণে রান্নাঘরেও আসন দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে হলের ডায়নিংয়ে খাবারের মান এবং ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নিম্নমানের- এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী। এমতাবস্থায় নিজ নিজ কক্ষে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে রান্না করাই তাদের কাছে একমাত্র সমাধান, এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে কৃষিকন্যা হল পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রতিটি রান্নাঘরে ৪ থেকে ৬ জনকে আসন দেওয়া হয়েছে। মূলভবনের ১০ টি রান্নাঘরে মোট ৩৮জন অবস্থান করছেন।

হল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায় যে, শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০টি হিটার ও রাইসকুকার জব্দ করা হয়েছে এবং ১৫টি হিটার ভেঙে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষিকণ্যা হলের এবং কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের এক শিক্ষার্থী উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জব্দ করার নামে কিছু জিনিস নষ্ট করা হয়ছে। এই হিটার বা ইনডাকশনগুলো ভাঙা হলো, এগুলো তো হল থেকে দেওয়া হয় নাই। এগুলা যারা কিনেছে তারা তো নিজেদের টাকায় কিনেছে। হল কতৃপক্ষ ফাইন ও করতে পারতো। যন্ত্রগুলো এভাবে নষ্ট করার ক্ষতিপূরণ কি দেওয়া হবে আদৌ?

হলের সিট সংকট এবং ডাইনিং এর খাবারে দুর্দশার কথা উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করা শর্তে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে এই হল থেকে? এর শেষ কোথায়? আমাদের সঙ্গে এই হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা অবর্ণনীয়। আমরা সারা বছর পানির কষ্ট সহ্য করি, সিটের কষ্টও মেনে নিয়ে চলছি শুরু থেকে। এখন আমাদের খাবারের কষ্টও করতে হচ্ছে। এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? হলের ডাইনিংয়ের খাবার প্রায় সময়ই এমন থাকে যে তা মুখে নেওয়ার মতো থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন , হলে তীব্র সিট সংকট রয়েছে। চারজনের রুমে ৬ জন থাকতে হয়, রুমে পড়ার টেবিল রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। কিচেনের কোনো ব্যবস্থা নেই।হলের ডাইনিং এ খাওয়া সবসময় সবার জন্য সম্ভব হয় না। কোনোরকম কিচেনের ব্যবস্থা না থাকায়, বাধ্য হয়ে ছাত্রীরা রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। অন্য সব হলের তুলনায় অপ্রতুল সুবিধা সত্ত্বেও এধরণের অভিযান কোনোভাবেই কাম্য নয়।

নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক স্নাতকোত্তর এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের হিটার ও রাইসকুকার জব্দ করা হলেও হলের অফিসের ভেতরেই কর্মচারীদের প্রায় হিটার ব্যবহার করে রান্না করতে দেখা যায়। হলের ডাইনিংয়ের মানহীন খাবারের কারণে শিক্ষার্থীরা অনেকটা বাধ্য হয়েই বিকল্প উপায়ে রান্নার ব্যবস্থা করেছিল।

এ বিষয়ে কৃষিকন্যা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, আমি উপাচার্যের নির্দেশে হিটার, রাইসকুকার জব্দ করেছি। হলের বিদুৎ লাইনগুলো হিটারের জন্য না। এগুলা শুধু লাইট ফ্যান ব্যবহারের জন্য। হিটার ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দেয়। বারবার বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে স্থায়ী কর্মচারীও রাখতে হয়ছে।

আবাসন সংকট ও রান্নাঘরে সিট বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, আবাসন সংকট নিরসনে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কোনো কক্ষই ফাঁকা রাখা হয়নি এবং গতকালও সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। থিসিস শেষ হওয়া মাত্রই শূন্য আসনে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ফ্লোরে রান্নাঘর ছিলো। কিন্তু রান্নাঘরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অভিযোগের মাথায় রান্নাঘর বন্ধ করতে হয়েছে।

ডাইনিং ব্যবস্থাপনা ও খাবারের মান নিয়ে তিনি বলেন, আমি ডাইনিং ম্যানেজিং কমিটির সাথে যোগাযোগ রাখছি। ডাইনিং সমস্যার খুব দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য বলেছি। আমি হাউজ টিউটর একজন দায়িত্বে দিবো। হঠাৎ তদন্তের জন্য যাবে কোনো সমস্যা হলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ছাত্রীদের মাধ্যমেই ডাইনিং সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।