ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারীদের এগ ফ্রিজিং কী, বাংলাদেশে কি এই সেবা আছে?

নারীদের প্রজনন ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং ভবিষ্যতের মা হওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘এগ ফ্রিজিং’ বা ডিম্বাণু সংরক্ষণ পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাধারণত কোনো নারী যদি তাৎক্ষণিকভাবে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত না নেন, তবে তার তরুণ বয়সের স্বাস্থ্যকর ডিম্বাণুগুলো হিমায়িত করে ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষিত রাখা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এই পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিজ্ঞানসম্মত কিছু সুনির্দিষ্ট ধাপ এবং শারীরিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়।

এগ ফ্রিজিং প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আগ্রহী নারীকে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিম্বাণু সংগ্রহের এই পুরো কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রোগীকে নির্দিষ্ট কিছু হরমোনের ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। এই হরমোনগুলোর মূল কাজ হলো নারীর ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করা, যার ফলে একসঙ্গে একাধিক ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়ার সুযোগ পায়। ডিম্বাণুগুলো পর্যাপ্ত পরিপক্বতা অর্জন করার পর চিকিৎসকরা বিশেষ চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলো শরীর থেকে সংগ্রহ করে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে দেন।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, এই পদ্ধতির যেমন সুফল রয়েছে, তেমনি এর কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হরমোনের ইনজেকশন ব্যবহারের ফলে রোগীর শরীরে নানা ধরনের শারীরিক পরিবর্তন বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে, ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিন্ড্রোম বা ওএইচএসএস-এর মতো জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থেকেই যায়, যা রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়া চিকিৎসকরা মনে করেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া শুরুর আগে প্রত্যেক নারীর নিজের শারীরিক সক্ষমতা এবং চিকিৎসাগত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে এই সেবার ব্যাপক প্রসার ঘটলেও বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিং বা ডিম্বাণু সংরক্ষণের বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দেশের কিছু বিশেষায়িত ফার্টিলিটি ক্লিনিকে এই সেবা চালুর বিষয়ে আলোচনা চললেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ সম্পর্কে সচেতনতা ও আইনি বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এখনও সীমিত। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের দেশে এই সেবাটি পুরোপুরি পেতে হলে আরও সময় এবং অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজন হবে। তবে প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশেও আধুনিক এই চিকিৎসাপদ্ধতির প্রতি আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব

নারীদের এগ ফ্রিজিং কী, বাংলাদেশে কি এই সেবা আছে?

প্রকাশিত ১১:৫১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারীদের প্রজনন ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং ভবিষ্যতের মা হওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘এগ ফ্রিজিং’ বা ডিম্বাণু সংরক্ষণ পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাধারণত কোনো নারী যদি তাৎক্ষণিকভাবে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত না নেন, তবে তার তরুণ বয়সের স্বাস্থ্যকর ডিম্বাণুগুলো হিমায়িত করে ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষিত রাখা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এই পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিজ্ঞানসম্মত কিছু সুনির্দিষ্ট ধাপ এবং শারীরিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়।

এগ ফ্রিজিং প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আগ্রহী নারীকে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিম্বাণু সংগ্রহের এই পুরো কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রোগীকে নির্দিষ্ট কিছু হরমোনের ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। এই হরমোনগুলোর মূল কাজ হলো নারীর ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করা, যার ফলে একসঙ্গে একাধিক ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়ার সুযোগ পায়। ডিম্বাণুগুলো পর্যাপ্ত পরিপক্বতা অর্জন করার পর চিকিৎসকরা বিশেষ চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলো শরীর থেকে সংগ্রহ করে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে দেন।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, এই পদ্ধতির যেমন সুফল রয়েছে, তেমনি এর কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হরমোনের ইনজেকশন ব্যবহারের ফলে রোগীর শরীরে নানা ধরনের শারীরিক পরিবর্তন বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে, ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিন্ড্রোম বা ওএইচএসএস-এর মতো জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থেকেই যায়, যা রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়া চিকিৎসকরা মনে করেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া শুরুর আগে প্রত্যেক নারীর নিজের শারীরিক সক্ষমতা এবং চিকিৎসাগত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে এই সেবার ব্যাপক প্রসার ঘটলেও বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিং বা ডিম্বাণু সংরক্ষণের বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দেশের কিছু বিশেষায়িত ফার্টিলিটি ক্লিনিকে এই সেবা চালুর বিষয়ে আলোচনা চললেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ সম্পর্কে সচেতনতা ও আইনি বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এখনও সীমিত। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের দেশে এই সেবাটি পুরোপুরি পেতে হলে আরও সময় এবং অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজন হবে। তবে প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশেও আধুনিক এই চিকিৎসাপদ্ধতির প্রতি আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে।