ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo টিকটক ভিডিও নিয়ে বিরোধ, চুয়াডাঙ্গায় যুবককে কুপিয়ে জখম Logo নির্বাচন কবে ঠিক নেই, অথচ পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে মাদারীপুর Logo খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে, একদিনে আক্রান্ত ৩৩৪ Logo আজ থেকে আমানতের মূল টাকা ফেরত পাবেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা Logo বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার শুরু ২৯ অক্টোবর Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট, চবি শিক্ষক বরখাস্ত Logo মুশফিক ভাই বলেছেন, খুশি হওয়ার কিছু নেই, রান করো- সেটাই তোমার কাজ! Logo বিশ্বকাপে না খেলার তদন্ত রিপোর্ট আসবে আগামী সপ্তাহে: আমিনুল Logo ব্যক্তির কারণে কোম্পানি বন্ধ করে দেশের অর্থনীতি চলতে পারে না Logo শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যানইউর জয় কেড়ে নিলো এভারটন

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে, একদিনে আক্রান্ত ৩৩৪

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে এবং বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, কেবল একদিনেই বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে তিন শতাধিক মানুষ ভর্তি হয়েছেন। এই ধারাবাহিক রোগী বৃদ্ধির ফলে চলতি বছরে বিভাগজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সময়ে নতুন করে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও চলতি বছরে এ পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একুশ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং বাকিরা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সময়ে সরকারি হাসপাতালে দুই শতাধিক এবং বেসরকারি হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থতা লাভ করে হাসপাতাল ছেড়েছেন তিন শতাধিক রোগী, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয়। তবে বর্তমানেও বিভাগের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে সহস্রাধিকের কাছাকাছি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তারা প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করছেন। বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে দেখা যায়, আক্রান্তদের সিংহভাগ ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বিভাগের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, খুলনা জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে এবং এখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া খুলনা ছাড়াও বাগেরহাট জেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি যশোর এবং নড়াইল জেলাতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম নয়। এই অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুলনা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন জানিয়েছেন যে, প্রকোপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই জেলার সব হাসপাতালে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে খুলনা বিভাগের পরিচালক মোশাররফ হোসেন ব্যাখ্যা করেছেন যে, বর্ষার শুরুতে মশার লার্ভা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে পানি জমে থাকায় লার্ভা বিস্তারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে মশা নিধনে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বর্ষার তীব্রতা কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়

টিকটক ভিডিও নিয়ে বিরোধ, চুয়াডাঙ্গায় যুবককে কুপিয়ে জখম

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে, একদিনে আক্রান্ত ৩৩৪

প্রকাশিত ০৭:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে এবং বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, কেবল একদিনেই বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে তিন শতাধিক মানুষ ভর্তি হয়েছেন। এই ধারাবাহিক রোগী বৃদ্ধির ফলে চলতি বছরে বিভাগজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সময়ে নতুন করে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও চলতি বছরে এ পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একুশ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং বাকিরা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সময়ে সরকারি হাসপাতালে দুই শতাধিক এবং বেসরকারি হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থতা লাভ করে হাসপাতাল ছেড়েছেন তিন শতাধিক রোগী, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয়। তবে বর্তমানেও বিভাগের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে সহস্রাধিকের কাছাকাছি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তারা প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করছেন। বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে দেখা যায়, আক্রান্তদের সিংহভাগ ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বিভাগের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, খুলনা জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে এবং এখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া খুলনা ছাড়াও বাগেরহাট জেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি যশোর এবং নড়াইল জেলাতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম নয়। এই অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুলনা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন জানিয়েছেন যে, প্রকোপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই জেলার সব হাসপাতালে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে খুলনা বিভাগের পরিচালক মোশাররফ হোসেন ব্যাখ্যা করেছেন যে, বর্ষার শুরুতে মশার লার্ভা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে পানি জমে থাকায় লার্ভা বিস্তারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে মশা নিধনে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বর্ষার তীব্রতা কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।