ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চট্টগ্রামে সিটি কলেজে শিবিরের হামলার প্রতিবাদে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ Logo শিক্ষকদের ডাকা শাটডাউন কর্মসূচিতে ববি শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া Logo জাবিতে বাস্কেটবল ক্লাবের যাত্রা শুরু, সভাপতি অক্ষর সম্পাদক নাবিলা Logo ইরানের তেল বাণিজ্য অচল করে দেওয়ার হুমকি মার্কিন মন্ত্রীর Logo সরকারের মধুচন্দ্রিমায় গ্রহণ লাগার শঙ্কা – মাহমুদুর রহমান Logo রাবিতে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মর্টার শেল উদ্ধার  Logo অসুস্থ জীমের পাশে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা, বৃত্তির অর্থ প্রদান Logo সংগ্রামের শহরে স্বপ্ন বুনছেন সুজন মিয়া Logo চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের উপর হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল Logo “জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের আহ্বান রাবি ছাত্রদল সভাপতির”

সংগ্রামের শহরে স্বপ্ন বুনছেন সুজন মিয়া

ব্যস্ত নগরী ঢাকা—এখানে দিন মানেই ছুটে চলা, আর রাত মানেই ক্লান্তির গল্প। এই শহরের ফুটপাত, রাস্তার মোড় কিংবা অলিগলিতে প্রতিদিনই জন্ম নেয় অসংখ্য জীবনের গল্প—সংগ্রামের, টিকে থাকার, আর ছোট ছোট স্বপ্নের।

ঠিক তেমনই এক গল্পের নাম সুজন মিয়া।

কবি নজরুল সরকারি কলেজ-এর মূল ফটকের সামনে বিকেল নামতেই একটি ছোট ভ্যান নিয়ে বসে পড়েন তিনি। সারি করে সাজানো কলার থোকা, পাশে বসে থাকা এক মধ্যবয়সী মানুষ—দেখলে সাধারণই মনে হবে। কিন্তু এই সাধারণ চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ লড়াইয়ের গল্প।

দিনের বেলা তিনি ওই কলেজেরই একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মাস শেষে হাতে পান মাত্র আট হাজার টাকা। এই টাকায় রাজধানীতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।

তাই অফিস শেষ হতেই শুরু হয় তার আরেক জীবন—কলা বিক্রেতা সুজন হোসেন ওরফে সুজন মিয়া।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কলেজের সামনে দেখা যায়, ভ্যানের এক কোণে বসে আছেন তিনি। মুখে ক্লান্তি, কিন্তু চোখে এক ধরনের দৃঢ়তা। কথা বলতে বলতে তিনি বলেন, এই কলা বিক্রি না করলে ঢাকায় থাকা আমার জন্য সম্ভব হতো না।

তার বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলায়। কিন্তু জীবিকার টানে ছুটে এসেছেন ঢাকায়। পরিবারকে ভালো রাখার জন্যই এই সংগ্রাম।

সুজন মিয়ার এক ছেলে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে পড়ছে। ছোট্ট একটি মেয়ে, বয়স মাত্র দেড় বছর। ছেলেকে হাফেজ বানানো আর মেয়েকে বড় হয়ে ডাক্তার হিসেবে দেখার স্বপ্ন বুকে নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

সুজন হোসেন বলেন, সৎভাবে আয় করার মধ্যে আলাদা শান্তি আছে। কষ্ট হলেও কাজ করতে লজ্জা লাগে না।

প্রতিদিন প্রায় ১৫ পোন, অর্থাৎ প্রায় ৩০০ হালি কলা বিক্রি করেন তিনি। প্রতি হালি ৩০ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য দাম আরও কমিয়ে দেন। লাভ কম, কিন্তু বিক্রি বেশি—এই হিসাবেই এগিয়ে চলছেন তিনি।

কলেজের এক শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, সুজন ভাইয়ের কলা ভালো, দামও কম। তাই প্রায়ই এখান থেকে কিনি।

একজন পথচারীও জানালেন, এখানে কলা সুস্বাদু এবং ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় তিনি নিয়মিত কিনে থাকেন।

সুজন মিয়া জানান, সদরঘাটের আড়ত কাছাকাছি হওয়ায় তিনি কম খরচে কলা সংগ্রহ করতে পারেন। ফলে কম লাভে বিক্রি করেও তার ব্যবসা ভালো চলে।

দিন শেষে হিসাব মেলাতে বসেন তিনি—কতটা আয় হলো, কতটা খরচ। সেই হিসাবেই এগিয়ে চলে তার সংসার, তার স্বপ্ন।

এই শহরের হাজারো কোলাহলের মাঝেও সুজন মিয়ার মতো মানুষরা চুপচাপ লড়ে যান নিজেদের জীবনের জন্য। তাদের গল্পগুলো হয়তো শিরোনাম হয় না, কিন্তু তাদের সংগ্রামই গড়ে তোলে এই শহরের ভিত।

জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে সিটি কলেজে শিবিরের হামলার প্রতিবাদে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ

সংগ্রামের শহরে স্বপ্ন বুনছেন সুজন মিয়া

প্রকাশিত ০৯:২১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ব্যস্ত নগরী ঢাকা—এখানে দিন মানেই ছুটে চলা, আর রাত মানেই ক্লান্তির গল্প। এই শহরের ফুটপাত, রাস্তার মোড় কিংবা অলিগলিতে প্রতিদিনই জন্ম নেয় অসংখ্য জীবনের গল্প—সংগ্রামের, টিকে থাকার, আর ছোট ছোট স্বপ্নের।

ঠিক তেমনই এক গল্পের নাম সুজন মিয়া।

কবি নজরুল সরকারি কলেজ-এর মূল ফটকের সামনে বিকেল নামতেই একটি ছোট ভ্যান নিয়ে বসে পড়েন তিনি। সারি করে সাজানো কলার থোকা, পাশে বসে থাকা এক মধ্যবয়সী মানুষ—দেখলে সাধারণই মনে হবে। কিন্তু এই সাধারণ চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ লড়াইয়ের গল্প।

দিনের বেলা তিনি ওই কলেজেরই একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মাস শেষে হাতে পান মাত্র আট হাজার টাকা। এই টাকায় রাজধানীতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।

তাই অফিস শেষ হতেই শুরু হয় তার আরেক জীবন—কলা বিক্রেতা সুজন হোসেন ওরফে সুজন মিয়া।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কলেজের সামনে দেখা যায়, ভ্যানের এক কোণে বসে আছেন তিনি। মুখে ক্লান্তি, কিন্তু চোখে এক ধরনের দৃঢ়তা। কথা বলতে বলতে তিনি বলেন, এই কলা বিক্রি না করলে ঢাকায় থাকা আমার জন্য সম্ভব হতো না।

তার বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলায়। কিন্তু জীবিকার টানে ছুটে এসেছেন ঢাকায়। পরিবারকে ভালো রাখার জন্যই এই সংগ্রাম।

সুজন মিয়ার এক ছেলে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে পড়ছে। ছোট্ট একটি মেয়ে, বয়স মাত্র দেড় বছর। ছেলেকে হাফেজ বানানো আর মেয়েকে বড় হয়ে ডাক্তার হিসেবে দেখার স্বপ্ন বুকে নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

সুজন হোসেন বলেন, সৎভাবে আয় করার মধ্যে আলাদা শান্তি আছে। কষ্ট হলেও কাজ করতে লজ্জা লাগে না।

প্রতিদিন প্রায় ১৫ পোন, অর্থাৎ প্রায় ৩০০ হালি কলা বিক্রি করেন তিনি। প্রতি হালি ৩০ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য দাম আরও কমিয়ে দেন। লাভ কম, কিন্তু বিক্রি বেশি—এই হিসাবেই এগিয়ে চলছেন তিনি।

কলেজের এক শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, সুজন ভাইয়ের কলা ভালো, দামও কম। তাই প্রায়ই এখান থেকে কিনি।

একজন পথচারীও জানালেন, এখানে কলা সুস্বাদু এবং ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় তিনি নিয়মিত কিনে থাকেন।

সুজন মিয়া জানান, সদরঘাটের আড়ত কাছাকাছি হওয়ায় তিনি কম খরচে কলা সংগ্রহ করতে পারেন। ফলে কম লাভে বিক্রি করেও তার ব্যবসা ভালো চলে।

দিন শেষে হিসাব মেলাতে বসেন তিনি—কতটা আয় হলো, কতটা খরচ। সেই হিসাবেই এগিয়ে চলে তার সংসার, তার স্বপ্ন।

এই শহরের হাজারো কোলাহলের মাঝেও সুজন মিয়ার মতো মানুষরা চুপচাপ লড়ে যান নিজেদের জীবনের জন্য। তাদের গল্পগুলো হয়তো শিরোনাম হয় না, কিন্তু তাদের সংগ্রামই গড়ে তোলে এই শহরের ভিত।