ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জাঙ্ক ফুড পরিহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য: ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ সেমিনারে বক্তারা Logo অবিরাম স্ক্রিন ব্যবহারের যুগে চোখের স্বস্তিও এখন গুরুত্বপূর্ণ Logo জাবির সাবেক ছাত্রীকে গালিগালাজ, অভিযোগ পত্র জমা Logo চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে ববি মেডিকেল সেন্টার, তদন্তের অপেক্ষায় শিক্ষার্থী Logo জাবি মেডিকেল থেকে ২১ দিনে ২০ হাজার পিস ওষুধ গায়েব  Logo পাবিপ্রবিস্থ দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি প্রকাশ  Logo জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার Logo রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ি নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo অচল কম্পিউটারে চলছে পাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ল্যাব, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা Logo ঘোষণায় সীমাবদ্ধ ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’, দুই বছরেও শুরু হয়নি কাজ

চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে ববি মেডিকেল সেন্টার, তদন্তের অপেক্ষায় শিক্ষার্থী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাসেবায় অবহেলা ও ভুল ড্রেসিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন এক শিক্ষার্থী। তার দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে দুই দফা অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী অহনা জেবিন ইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

পোস্টে তিনি জানান, গত ৫ জুলাই পড়ে গিয়ে তার পায়ে সামান্য আঘাত লাগে এবং চামড়া ছিলে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ড্রেসিং করানো, অ্যান্টি-টিটেনাস সিরাম (এটিএস) ইনজেকশন নেওয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেন। তবে তার অভিযোগ, মেডিকেল সেন্টারের এক কর্মচারী কোনো ধরনের অয়েন্টমেন্ট বা ক্রিম ব্যবহার না করে সরাসরি গজ দিয়ে ক্ষতস্থান ব্যান্ডেজ করে দেন।

অহনার দাবি, পরদিন থেকেই ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পুনরায় মেডিকেল সেন্টারে গেলে তাকে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বরং ওই কর্মচারী ব্যান্ডেজ খুলে রাখতে এবং কোনো ধরনের ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। এর পর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, পা ফুলে যায় এবং ক্ষতের কিছু অংশ কালো হয়ে যায়। একপর্যায়ে তার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তার এক বন্ধু ক্ষতস্থানের ছবি চিকিৎসককে দেখাতে গেলে তাকেও বাধা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক ছবি দেখে সংক্রমণের বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, সঠিকভাবে ড্রেসিং না হওয়া এবং ক্ষতস্থানে ইটের গুঁড়া থেকে যাওয়ার কারণে সংক্রমণ হয়েছে। এরপর তার পায়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়। তবে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় গত ১৭ জুলাই একটি বেসরকারি হাসপাতালে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করাতে হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অহনা জেবিন ইরা বলেন, “মেডিকেলে গিয়ে যদি ঠিকমতো চিকিৎসাই না পাওয়া যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রয়োজন কী? কর্মচারীরা যদি সঠিকভাবে ড্রেসিং করতে না পারেন, তাহলে তারা কোন যোগ্যতায় দায়িত্ব পালন করছেন? চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত আমার প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আমি চাই না অন্য কোনো শিক্ষার্থী এমন ভোগান্তির শিকার হোক।”

তবে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বরত চিকিৎসক আন্তরিক ছিলেন। তার ভাষ্য, “সমস্যা হয়েছে কর্মচারীর আচরণ ও দায়িত্ব পালনে। তিনি ঠিকভাবে ড্রেসিং করেননি, চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতেও বাধা দিয়েছেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. শাম্মী আরা নিপা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনই মন্তব্য করতে পারছি না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আমার অফিসে আসতে বলুন। তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেন কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয়

সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জাঙ্ক ফুড পরিহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য: ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ সেমিনারে বক্তারা

চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে ববি মেডিকেল সেন্টার, তদন্তের অপেক্ষায় শিক্ষার্থী

প্রকাশিত ১০:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাসেবায় অবহেলা ও ভুল ড্রেসিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন এক শিক্ষার্থী। তার দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে দুই দফা অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী অহনা জেবিন ইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

পোস্টে তিনি জানান, গত ৫ জুলাই পড়ে গিয়ে তার পায়ে সামান্য আঘাত লাগে এবং চামড়া ছিলে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ড্রেসিং করানো, অ্যান্টি-টিটেনাস সিরাম (এটিএস) ইনজেকশন নেওয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেন। তবে তার অভিযোগ, মেডিকেল সেন্টারের এক কর্মচারী কোনো ধরনের অয়েন্টমেন্ট বা ক্রিম ব্যবহার না করে সরাসরি গজ দিয়ে ক্ষতস্থান ব্যান্ডেজ করে দেন।

অহনার দাবি, পরদিন থেকেই ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পুনরায় মেডিকেল সেন্টারে গেলে তাকে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বরং ওই কর্মচারী ব্যান্ডেজ খুলে রাখতে এবং কোনো ধরনের ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। এর পর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, পা ফুলে যায় এবং ক্ষতের কিছু অংশ কালো হয়ে যায়। একপর্যায়ে তার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তার এক বন্ধু ক্ষতস্থানের ছবি চিকিৎসককে দেখাতে গেলে তাকেও বাধা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক ছবি দেখে সংক্রমণের বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, সঠিকভাবে ড্রেসিং না হওয়া এবং ক্ষতস্থানে ইটের গুঁড়া থেকে যাওয়ার কারণে সংক্রমণ হয়েছে। এরপর তার পায়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়। তবে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় গত ১৭ জুলাই একটি বেসরকারি হাসপাতালে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করাতে হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অহনা জেবিন ইরা বলেন, “মেডিকেলে গিয়ে যদি ঠিকমতো চিকিৎসাই না পাওয়া যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রয়োজন কী? কর্মচারীরা যদি সঠিকভাবে ড্রেসিং করতে না পারেন, তাহলে তারা কোন যোগ্যতায় দায়িত্ব পালন করছেন? চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত আমার প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আমি চাই না অন্য কোনো শিক্ষার্থী এমন ভোগান্তির শিকার হোক।”

তবে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বরত চিকিৎসক আন্তরিক ছিলেন। তার ভাষ্য, “সমস্যা হয়েছে কর্মচারীর আচরণ ও দায়িত্ব পালনে। তিনি ঠিকভাবে ড্রেসিং করেননি, চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতেও বাধা দিয়েছেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. শাম্মী আরা নিপা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনই মন্তব্য করতে পারছি না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আমার অফিসে আসতে বলুন। তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেন কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”