ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই প্রায় ৭ কোটি বাংলাদেশির Logo দল থেকে বহিষ্কার হওয়া এমপি নজরুলের আসন শূন্য হওয়া নিয়ে যা জানালো ইসি Logo রান্না হতেই বদলে গেল রঙ, সবুজ মাংসের কড়াই নিয়ে সোজা থানায় ভুক্তভোগীরা! Logo জুলাই শহীদদের স্মরণে ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল  Logo চরভদ্রাসনে খাল কাটায় ‘ভূতুড়ে শ্রমিক’: কাগজে ১৭৮, মাঠে ৫০ Logo আগামী বছরের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: মির্জা ফখরুল Logo বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের Logo এনসিপি নেত্রীদের ‘জামাতের দাসী’ বলে ট্রল ও হেনস্তার প্রতিবাদ Logo কর্মসংস্থানে সমতার অঙ্গীকারে এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হলো স্বপ্ন Logo চার্জিং অ্যাংজাইটিকে বিদায় জানাচ্ছে ভিভোর নতুন ফোন

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সহজ হলো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সহজ হলো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং ও সেবা রপ্তানি খাতকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কার ও সমন্বয় এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে প্রচলিত রপ্তানি নথির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে প্রক্রিয়াটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ক্ষুদ্র অঙ্কের লেনদেন সহজ করতে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। একইসঙ্গে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয়ের অর্থ নিতে পারবেন।

ব্যক্তিপর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক মুদ্রা আয় দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে আনয়ন, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের সব নিয়মাবলীকে একটি একক কাঠামোর অধীনে সংকলিত ও পুনঃসংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর ফলে কোনো প্রকার সনাতনী কাগজপত্র ছাড়াই ডিজিটাল উপায়ে উপার্জিত অর্থ দ্রুত ও সহজে দেশে আনার পথ সুগম হলো।

এই পরিপত্রের মাধ্যমে ডুয়েল কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ ইস্যুর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন, বিষয়টি এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) নামে পরিচিত। এতে ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি মুদ্রায় আয় করা অর্থের একটি অংশ ডলারে রেখে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, ক্লাউড সেবা, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য বৈদেশিক ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন। অন্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারক আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রপ্তানি আয় আনতে উৎসাহিত হতে পারেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ যেমন বাড়বে, তেমনি সেবা রপ্তানি থেকে কী পরিমাণ আয় হচ্ছে, তার পরিসংখ্যান রাখা সহজ হবে।

জনপ্রিয়

স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই প্রায় ৭ কোটি বাংলাদেশির

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সহজ হলো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন

প্রকাশিত ০৮:৪৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং ও সেবা রপ্তানি খাতকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কার ও সমন্বয় এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে প্রচলিত রপ্তানি নথির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে প্রক্রিয়াটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ক্ষুদ্র অঙ্কের লেনদেন সহজ করতে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। একইসঙ্গে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয়ের অর্থ নিতে পারবেন।

ব্যক্তিপর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক মুদ্রা আয় দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে আনয়ন, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের সব নিয়মাবলীকে একটি একক কাঠামোর অধীনে সংকলিত ও পুনঃসংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর ফলে কোনো প্রকার সনাতনী কাগজপত্র ছাড়াই ডিজিটাল উপায়ে উপার্জিত অর্থ দ্রুত ও সহজে দেশে আনার পথ সুগম হলো।

এই পরিপত্রের মাধ্যমে ডুয়েল কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ ইস্যুর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন, বিষয়টি এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) নামে পরিচিত। এতে ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি মুদ্রায় আয় করা অর্থের একটি অংশ ডলারে রেখে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, ক্লাউড সেবা, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য বৈদেশিক ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন। অন্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারক আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রপ্তানি আয় আনতে উৎসাহিত হতে পারেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ যেমন বাড়বে, তেমনি সেবা রপ্তানি থেকে কী পরিমাণ আয় হচ্ছে, তার পরিসংখ্যান রাখা সহজ হবে।