বাংলাদেশের রাজনৈতিক হাইওয়েতে সবচেয়ে ব্যস্ত ‘পরিবহনগুলোর’ একটি যেন— ‘জয় বাংলা টু বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিবহনের যাত্রী বদলায়, কিন্তু যাত্রা থামে না। সর্বশেষ এই যাত্রাপথের আলোচনায় উঠে এসেছে সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নাম। এর আগে অনেকেই এই পরিবহনে চড়েছেন, ভবিষ্যতেও চড়বেন—এমন ধারণা করাই যায়।
তবে রাজনীতির এই সড়ক একমুখী নয়। কখনো ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ থেকে যাত্রা শুরু হয়ে গন্তব্য হয় ‘জয় বাংলা’! এর অন্যতম আলোচিত উদাহরণ শাহজাহান ওমর। যদিও তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি নাকি শুরু থেকেই ‘জয় বাংলার’ মানুষ ছিলেন।
রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ইতিহাস নতুন নয়। পৃথিবীর প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশেই দলবদল, মতবদল কিংবা আনুগত্য বদলের নজির রয়েছে। আর পাক-ভারতীয় উপমহাদেশে তো এটি যেন রাজনীতির এক অলিখিত সংস্কৃতি। ক্ষমতার কেন্দ্র বদলালেই অনেকের রাজনৈতিক কম্পাসও নতুন দিক নির্দেশ করতে শুরু করে।
বাংলাদেশে কিংবা প্রতিবেশী ভারতে—দৃশ্যপট প্রায় একই। ক্ষমতা যার হাতে, তার চারপাশে ভিড়ও যেন সেদিকেই। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে গতকাল পর্যন্ত যারা ‘বিশ্বস্ত সৈনিক’ ছিলেন, তাদের অনেকেই আজ নতুন পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে যান। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাস—সবখানেই এমন দৃশ্য কমবেশি দেখা গেছে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, দল বদলানোর পর অনেকেই এমনভাবে নতুন আদর্শের ব্যাখ্যা দেন, যেন এতদিন ভুল ঠিকানায় ছিলেন। কেউ বলেন, “পরিস্থিতি বদলেছে”; কেউ বলেন, “দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়েছি”; আবার কেউ দাবি করেন, “আমি তো শুরু থেকেই এই আদর্শের মানুষ।” তখন দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগে—আসলে বদলেছে কী? আদর্শ, নাকি ঠিকানা?
রাজনীতিতে আদর্শের মৃত্যু হয়তো একদিনে হয় না। তবে আদর্শ যখন ক্ষমতার সিঁড়ি হয়ে যায়, তখন স্লোগান বদলাতে সময় লাগে না। শুধু পতাকার রং পাল্টায়, মুখের ভাষা পাল্টায়, স্লোগান পাল্টায়; কিন্তু ক্ষমতার করিডোরে হাঁটার অভ্যাসটা একই থাকে।
তাই হয়তো বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনের নাম—’জয় বাংলা টু বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। শুধু একটি বিষয় নিশ্চিত নয়—পরবর্তী স্টপেজে কারা নামবেন, আর কারা নতুন যাত্রী হিসেবে উঠবেন।






























