ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই, সময়কে কাজে লাগিয়ে লেখাপড়া করতেই হবে। দেশ তরুণদের দিকে তাকিয়ে আছে এবং তোমরাই গড়ে তুলবে আগামীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার বাজেট বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর জিডিপির 2% বাজেট শিক্ষায় বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বছরের ২৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাড়িয়ে এ বছর ১ লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতের এ বাজেট জিডিপির 5% পর্যন্ত উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘Center of Excellence’ হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির মতো এই বিশ্ববিদ্যালয়কেও কিউএস র্যাংকিংয়ে সম্মানের স্থানে নিয়ে যেতে হবে। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কেও একটি পূর্ণাঙ্গ ‘কম্প্রিহেন্সিভ’ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে মেডিকেল সাইন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি ও ইনোভেশনের মতো আধুনিক সব বিভাগ থাকবে।
বিদেশে মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেন’ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধার কোনো ভিসা লাগে না, তবে এখন সময় এসেছে ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেন’ বাস্তবায়ন করার। প্রবাসে থাকা শিক্ষক ও গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল’ বা দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মূল্যবান সময়কে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পরিবার ও জাতি তাদের দিকে আশার আলো নিয়ে তাকিয়ে আছে। সততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য তিনি তরুণদের নির্দেশ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের যেকোনো গবেষণা এবং একাডেমিক সহায়তায় সরকার পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শেষে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়।





















