প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান তথ্যমন্ত্রী অত্যন্ত যোগ্য মানুষ। অন্যান্য সহকর্মীরাও অনেক যোগ্যতা রাখেন, দক্ষতা রাখেন। আমি আশাবাদী, সরকারের ঘোষিত নীতিমালা এবং সরকারের উদ্যোগের যে প্রক্রিয়া, এখান থেকে বাকি কাজটুকু তারা সম্পন্ন করবেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতার নামই হচ্ছে সাংবাদিকতা। যদি ক্ষমতাকেই প্রশ্ন করা না যায়, তাহলে সেটা সাংবাদিকতা হয় না।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে দৈনিক জনতা পত্রিকার ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাবেক তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমি মন্ত্রণালয় ত্যাগ করার আগে তারেক রহমানের গণমাধ্যম কমিশন গঠন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যে ঘোষণা, এই ঘোষণার পক্ষে জনমত তৈরি করে রেখে এসেছি। আমি খুবই সৌভাগ্যবান। বেশি কিছু করতে না পারলেও এই জায়গাটা কিন্তু আমি তথ্যমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ত্যাগ করার আগে তৈরি করে দিয়ে আসতে পেরেছি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই বলেছেন যে, আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করব। পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে গণমাধ্যম কমিশন করার কথাও বলেছি।
তিনি আরও বলেন, আমি যে ছয় মাস দায়িত্বে ছিলাম, সেই সময়ে যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে নিয়েছিলাম, তার মধ্যে একটি ছিল গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা। কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের এমন কোনো গণমাধ্যম নেই, যা সরকারের এই উদ্যোগকে সহযোগিতা করার জন্য পাশে এসে দাঁড়ায়নি। বাংলাদেশের জন্মের পর এই প্রথম সরকারের কোনো উদ্যোগের সঙ্গে সব গণমাধ্যম জড়িত হয়েছে। এই প্রথম সরকারের বা তারেক রহমানের একটি উদ্যোগের সঙ্গে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিকদের ইউনিয়ন অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আমরা এই পর্যায়টি তৈরি করতে পেরেছি।
সরকারের সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুই ধরনের মানুষ গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করেন। এক ধরনের মানুষ বিনিয়োগ করেন এই কারণে যে, একটি গণমাধ্যম হাতে থাকা ভালো। আরেক ধরনের মানুষ বিনিয়োগ করেন দেশপ্রেমের প্রতিশ্রুতি থেকে। তারা মনে করেন, সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র কোনো না কোনোভাবে সমাজের কাছে তুলে ধরতেই হবে। সেই কাজে গণমাধ্যমই হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করতে পারে। একটি আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের মতো প্রতিষ্ঠান না থাকলে, কোনোভাবেই সেই রাষ্ট্র নিজেকে সভ্য রাষ্ট্র বলে দাবি করতে পারে না।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমই রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে কি না, জনগণের চাহিদা পূরণ করছে কি না, তার একটি চলমান জবাবদিহির প্রক্রিয়া। গণমাধ্যমের এই প্রতিচ্ছবি দেখার মধ্য দিয়েই তারা দর্পণ হিসেবে কাজ করে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এই উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতার নামই হচ্ছে সাংবাদিকতা। যদি ক্ষমতাকেই প্রশ্ন করা না যায়, তাহলে তো সাংবাদিকতা হয় না। আর যত বেশি প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক সরকার তত বেশি উত্তর দেবে। যত বেশি উত্তর দেওয়া হবে, জনগণের প্রতি সরকারের যে দায়বদ্ধতা এবং কাজ চলছে, তা তত বেশি পরিষ্কার করা যাবে। অতএব প্রশ্ন একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য সম্পদ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম, দৈনিক জনতা পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি সৈয়দ এম আলতাফ হোসাইন, দৈনিক জনতা পত্রিকার সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।






























