ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

দেশের বেশিরভাগ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন: সড়কমন্ত্রী

অ্যাম্বুলেন্স প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অন্যরা

দেশের বেশিরভাগ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন বলেন মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘ফিটনেসবিহীন বলার কারণ হলো, অধিকাংশ লোক ড্রাইভার হয়েছেন, পরিবহনে থাকতে থাকতে। মানে তারা হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছেন। এসব অদক্ষ ড্রাইভার ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আমার কাছে পাঁচটি বিষয়কে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ মনে হয়। সেগুলো হলো–ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, জনসচেতনতার অভাব, অতিরিক্ত গতি এবং হেলমেট ব্যবহার না করা। এসব দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাই সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সড়কমন্ত্রী বলেন, হাইওয়ের পাশের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট গঠন ও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যাতে অ্যাম্বুলেন্স থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৪ সালে সড়কে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও প্রতিদিনই অসংখ্য প্রাণ ঝরে যাচ্ছে– এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন হাইওয়ে পুলিশ আইন প্রয়োগ করে এবং দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাই তিনটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

পথচারীদের সচেতনতা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের পাশে বাজার, স্কুল ও কলেজ এলাকায় অনেকেই ওভারপাস ব্যবহার না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পার হন। এ মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি জানান, সরকার একটি সমন্বিত নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে কার্যকর হবে। পাশাপাশি বাস ও ট্রাকের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে পুরোনো যানবাহন স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বক্তব্য শেষে দুর্ঘটনা পরবর্তী চিকিৎসা সেবায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি প্যাট্রোল মোটরসাইকেল উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

জনপ্রিয়

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত নবজাতকের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

দেশের বেশিরভাগ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন: সড়কমন্ত্রী

প্রকাশিত ০৪:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বেশিরভাগ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন বলেন মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘ফিটনেসবিহীন বলার কারণ হলো, অধিকাংশ লোক ড্রাইভার হয়েছেন, পরিবহনে থাকতে থাকতে। মানে তারা হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছেন। এসব অদক্ষ ড্রাইভার ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আমার কাছে পাঁচটি বিষয়কে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ মনে হয়। সেগুলো হলো–ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, জনসচেতনতার অভাব, অতিরিক্ত গতি এবং হেলমেট ব্যবহার না করা। এসব দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাই সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সড়কমন্ত্রী বলেন, হাইওয়ের পাশের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট গঠন ও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যাতে অ্যাম্বুলেন্স থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৪ সালে সড়কে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও প্রতিদিনই অসংখ্য প্রাণ ঝরে যাচ্ছে– এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন হাইওয়ে পুলিশ আইন প্রয়োগ করে এবং দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাই তিনটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

পথচারীদের সচেতনতা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের পাশে বাজার, স্কুল ও কলেজ এলাকায় অনেকেই ওভারপাস ব্যবহার না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পার হন। এ মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি জানান, সরকার একটি সমন্বিত নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে কার্যকর হবে। পাশাপাশি বাস ও ট্রাকের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে পুরোনো যানবাহন স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বক্তব্য শেষে দুর্ঘটনা পরবর্তী চিকিৎসা সেবায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি প্যাট্রোল মোটরসাইকেল উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।