রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের আড়ালে অবৈধভাবে নকল সিগারেটের মোড়ক তৈরির বিশাল কারখানার সন্ধান মিলেছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) একটি বিশেষ দল সম্প্রতি সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এই আকস্মিক অভিযানে বৈধ ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলা অপরাধমূলক এই কার্যক্রমের বিষয়টি হাতেনাতে উদঘাটিত হয়।
অভিযান চলাকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেখতে পান যে, মিরপুর-১-এর গোড়ান চটবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘কৃষিবিদ সিড লিমিটেড–সিড প্রসেসিং সেন্টার’ নামক প্রতিষ্ঠানটি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণের বদলে অত্যন্ত সুকৌশলে নকল প্যাকেজিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশের বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের শত শত নকল মোড়ক বা প্যাকেট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন প্যাকেজিং সামগ্রী এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সন্দেহজনক নথিপত্রও উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা।
তদন্তকারী দলের সদস্যরা জানান, উদ্ধারকৃত নকল মোড়কগুলোর মধ্যে বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর বিভিন্ন ব্র্যান্ড যেমন— বেনসন অ্যান্ড হেজেস, ডার্বি এবং স্টারের মোড়ক রয়েছে। এই ধরনের মোড়ক উৎপাদনের জন্য কোনো ধরনের বৈধ সরকারি অনুমতি বা লাইসেন্স ওই প্রতিষ্ঠানের ছিল না। মূলত ভুয়া মোড়ক তৈরি করে তা অবৈধ সিগারেট প্রস্তুতকারকদের কাছে সরবরাহ করাই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আগেই মূল উৎপাদন যন্ত্রপাতিগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার বেশ কিছু স্পষ্ট আলামত ও প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে জব্দকৃত সামগ্রীর বিস্তারিত ইনভেন্টরি তৈরি এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে, যা শেষ হলে এই চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


































