ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন আজ

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজের জন্মভূমি ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই বিশেষ সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এই জেলাটিতে সাজসাজ রব পড়ে গেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দের জোয়ার বইছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পথ পেরিয়ে তিনি যখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়ে নিজ শহরে ফিরছেন, তখন তাঁকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সর্বস্তরের মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই সফরকে সফল ওি সুশৃঙ্খল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে তিনি বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে তাকে সরাসরি জেলা সার্কিট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রথা অনুযায়ী তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি শহরের সেনুয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে তার বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন এবং মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের কালীবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে কিছু সময় কাটান এবং সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম গ্রহণ করেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর তিনি নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছু সময় বিশ্রাম নেন এবং পরবর্তীতে সার্কিট হাউজ হয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির এই দুদিনের সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে মোড়ে তাকে স্বাগত জানিয়ে নানা ধরনের ফেস্টুন ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এলাকার প্রিয় মুখকে দেশের শীর্ষ পদে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা নিজেদের অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত বলে প্রকাশ করেছেন।

রাষ্ট্রপতির এই সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জেলাজুড়ে অভূতপূর্ব ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। এসএসএফ, পিজিআর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দল মাঠপর্যায়ে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ এবং প্রতিটি কর্মসূচির স্থানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। প্রশাসনের এমন সুদৃঢ় পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে এবং কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই ঐতিহাসিক সফর সমাপ্ত হয়েছে।

জনপ্রিয়

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বিমানবন্দর বন্ধ

রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন আজ

প্রকাশিত ০৯:৪৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজের জন্মভূমি ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই বিশেষ সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এই জেলাটিতে সাজসাজ রব পড়ে গেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দের জোয়ার বইছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পথ পেরিয়ে তিনি যখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়ে নিজ শহরে ফিরছেন, তখন তাঁকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সর্বস্তরের মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই সফরকে সফল ওি সুশৃঙ্খল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে তিনি বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে তাকে সরাসরি জেলা সার্কিট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রথা অনুযায়ী তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি শহরের সেনুয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে তার বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন এবং মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের কালীবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে কিছু সময় কাটান এবং সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম গ্রহণ করেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর তিনি নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছু সময় বিশ্রাম নেন এবং পরবর্তীতে সার্কিট হাউজ হয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির এই দুদিনের সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে মোড়ে তাকে স্বাগত জানিয়ে নানা ধরনের ফেস্টুন ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এলাকার প্রিয় মুখকে দেশের শীর্ষ পদে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা নিজেদের অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত বলে প্রকাশ করেছেন।

রাষ্ট্রপতির এই সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জেলাজুড়ে অভূতপূর্ব ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। এসএসএফ, পিজিআর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দল মাঠপর্যায়ে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ এবং প্রতিটি কর্মসূচির স্থানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। প্রশাসনের এমন সুদৃঢ় পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে এবং কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই ঐতিহাসিক সফর সমাপ্ত হয়েছে।