ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা লাভ করেছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুজন অতি ঘনিষ্ট ও শীর্ষ প্রতিনিধি। রুশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এই মার্কিন প্রতিনিধি দলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
মস্কোয় অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের প্রায় দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা তথা তাঁর উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই দীর্ঘ বৈঠকে ইউক্রেন সংকট সমাধানের সম্ভাব্য বিভিন্ন পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে দৃঢ় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, বর্তমান এই কূটনৈতিক যোগাযোগ তারই বাস্তব প্রতিফলন। হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা গ্রহণের আগেই ট্রাম্প শিবিরের পক্ষ থেকে ক্রেমলিনের সঙ্গে সরাসরি এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ শুরু করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যকার বরফ গলা শুরু হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে উভয় পক্ষ থেকে খুব বেশি প্রকাশ্যে মুখ না খোলা হলেও, ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির রূপরেখা তৈরিই ছিল এর মূল লক্ষ্য। বর্তমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষপর্যায়ের এই সরাসরি আলোচনা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর আগ্রহের সঙ্গে লক্ষ করছে যে, এই আলোচনার ফলাফল আগামী দিনে ইউক্রেন পরিস্থিতির ওপর ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলে।



































