ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo হাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার Logo বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ কিমের Logo রুশ বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে চান মিয়া সাত্তার Logo ‘এমন বডিবিল্ডার বাবা ঘরে ঘরে হোক’ Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ফেরানো ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’: শামা ওবায়েদ Logo ফোল্ডএবল আইফোন ঘিরে ক্রেতার ভিড়, মিলছে না সহজে Logo ‘অভিযোগ না পেলেও চাঁদাবাজির মামলা করতে পারবে পুলিশ’ Logo রাস্তা-ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই মামলা ও মালামাল ক্রোক: ডিএসসিসি প্রশাসক Logo কমনওয়েলথ কাবাডিতে কানাডাকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ Logo বার্সেলোনার হয়ে রেয়ালের বিপক্ষে খেলতে উন্মুখ জেসুস

বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ই-ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন ব্যাংক গ্রাহকরা

ডিজিটাল লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও জনপ্রিয় করে তুলতে ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য অভিনব ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আওতায় প্রচলিত সুদের পরিবর্তে নামমাত্র নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন গ্রাহকরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যেখানে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে এই নতুন সেবা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ আরও সহজে বিভিন্ন অনলাইন লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা আর্থিক সহায়তার সুযোগ পাবেন। এর সুনির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা বাবদ ফি প্রদান, এবং সরকারি বিভিন্ন কর বা টোল পরিশোধ। এছাড়া আমানতের কিস্তি, বিমার প্রিমিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য বৈধ খরচও এই ডিজিটাল ঋণের আওতায় পরিশোধ করা সম্ভব হবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ঋণের অর্থ কোনোভাবেই গ্রাহকদের হাতে নগদে প্রদান করা হবে না। সরাসরি অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমেই কেবল নির্ধারিত সেবা প্রদানকারীর হিসাবে এই অর্থ স্থানান্তরিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই বিশেষ ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ এবং মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে নামমাত্র ফি নির্ধারিত থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় টাকা এবং বড় অংকের ক্ষেত্রে মেয়াদের তারতম্যে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কেউ ঋণ পরিশোধ করতে চাইলে তাকে কোনো অতিরিক্ত চার্জ বা জরিমানা দিতে হবে না। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া নিয়মের অধীনে দৈনিক ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদানে বিকল্প ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি বা বহুমুখী প্রামাণিকীকরণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গ্রাহকদের সুরক্ষার জন্য ই-পেমেন্ট ক্রেডিট অনুমোদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সব ধরনের শর্ত, ফি এবং পরিশোধের নিয়ম স্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে। এছাড়া এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং অন্যান্য ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের চ্যানেলগুলো ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। তবে সংগৃহীত সকল গ্রাহক তথ্য দেশের ভেতরেই ডেটা ওয়্যারহাউসে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে। সরাসরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার আগে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত ছয় মাস পাইলট ভিত্তিতে এই সেবা পরিচালনা করতে হবে। এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল সন্তোষজনক হলে এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করা যাবে।

জনপ্রিয়

হাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার

বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ই-ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন ব্যাংক গ্রাহকরা

প্রকাশিত ০৪:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজিটাল লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও জনপ্রিয় করে তুলতে ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য অভিনব ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আওতায় প্রচলিত সুদের পরিবর্তে নামমাত্র নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন গ্রাহকরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যেখানে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে এই নতুন সেবা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ আরও সহজে বিভিন্ন অনলাইন লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা আর্থিক সহায়তার সুযোগ পাবেন। এর সুনির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা বাবদ ফি প্রদান, এবং সরকারি বিভিন্ন কর বা টোল পরিশোধ। এছাড়া আমানতের কিস্তি, বিমার প্রিমিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য বৈধ খরচও এই ডিজিটাল ঋণের আওতায় পরিশোধ করা সম্ভব হবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ঋণের অর্থ কোনোভাবেই গ্রাহকদের হাতে নগদে প্রদান করা হবে না। সরাসরি অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমেই কেবল নির্ধারিত সেবা প্রদানকারীর হিসাবে এই অর্থ স্থানান্তরিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই বিশেষ ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ এবং মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে নামমাত্র ফি নির্ধারিত থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় টাকা এবং বড় অংকের ক্ষেত্রে মেয়াদের তারতম্যে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কেউ ঋণ পরিশোধ করতে চাইলে তাকে কোনো অতিরিক্ত চার্জ বা জরিমানা দিতে হবে না। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া নিয়মের অধীনে দৈনিক ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদানে বিকল্প ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি বা বহুমুখী প্রামাণিকীকরণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গ্রাহকদের সুরক্ষার জন্য ই-পেমেন্ট ক্রেডিট অনুমোদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সব ধরনের শর্ত, ফি এবং পরিশোধের নিয়ম স্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে। এছাড়া এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং অন্যান্য ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের চ্যানেলগুলো ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। তবে সংগৃহীত সকল গ্রাহক তথ্য দেশের ভেতরেই ডেটা ওয়্যারহাউসে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে। সরাসরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার আগে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত ছয় মাস পাইলট ভিত্তিতে এই সেবা পরিচালনা করতে হবে। এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল সন্তোষজনক হলে এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করা যাবে।