হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে নাটকীয় ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এভারটন। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে দুর্দান্ত এক গোল করে দলের নিশ্চিত পরাজয় এড়ান দলটির নতুন খেলোয়াড়। রোমাঞ্চকর এই লড়াইয়ে দুই দফায় পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি এভারটন, যার ফলস্বরূপ শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয় তারা। ম্যাচটির শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয়তা উভয় দলের সমর্থক ও ফুটবল বিশ্লেষকদের দীর্ঘ সময় মনে রাখবে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য থাকার পর বিরতির ঠিক পরপরই গোলের খাতা খোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে অর্থাৎ ছিয়ানব্বই সেকেন্ডের মাথায় ব্রায়ান এমবিউমোর চমৎকার ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় রেড ডেভিলরা। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি স্বাগতিক এভারটন এবং তারা ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাতে থাকে। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে, অর্থাৎ তিরাশিতম মিনিটে টাইরিক জর্জের একটি শক্তিশালী শট প্রতিপক্ষের জালে জড়ালে সমতা ফেরে ম্যাচে।
সমতা ফেরার পর দুই দলই জয়ের জন্য আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে এবং ম্যাচটি চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নেয়। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে স্লোভেনিয়ান ফরোয়ার্ড বেঞ্জামিন সেসকো হেডের সাহায্যে গোল করে ম্যানইউকে আবারও এগিয়ে নেন। চলতি বছরে এর আগেও এই মাঠে বদলি নেমে গোল করার রেকর্ড থাকা সেসকোর এই গোলের পর কোচ মাইকেল ক্যারিকের দল জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে। জয় থেকে মাত্র কয়েক মুহূর্ত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ইউনাইটেড শিবির তখন পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তবে ম্যাচের ভাগ্য অন্য কিছু নির্ধারণ করে রেখেছিল এবং স্টপেজ টাইমের শেষ মুহূর্তে সব হিসাব ওলটপালট হয়ে যায়। ডেডলাইন ডেতে এভারটনে যোগ দেওয়া আইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলস অভিষেক ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে রূপকথার জন্ম দেন। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শট নেন তিনি, যা ম্যানইউ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সোজা জালে আশ্রয় নেয়। এই নাটকীয় গোলের সুবাদে ২-২ ব্যবধানের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে এভারটন, যা কোচ ডেভিড ময়েস ও দলের জন্য এক পয়েন্টের বড় স্বস্তি বয়ে আনে।



































