গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে প্রায় দেড় বছর আগে চুরি হওয়া দুটি অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির লেমুর ভারতে পাচার হয়ে গেছে। সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীগুলো উদ্ধারের পর বর্তমানে ভারতের গুজরাটের একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের হাতবদল হয়ে প্রাণীগুলো কীভাবে সীমান্ত পাড়ি দিল, তা নিয়ে এখন গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়ার পর একাধিক হাত ঘুরে ডাবলু-লেজের লেমুর দুটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। দেশের সীমানা পেরিয়ে পাচার হওয়া এই প্রাণীগুলো ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর বিষয়টি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। পরবর্তীতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে লেমুর দুটির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে। বন্যপ্রাণী পাচারের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি একটি বড় আন্তর্জাতিক চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনার পরপরই স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই বিরল প্রাণীর কোনো সন্ধান না মেলায় বিষয়টি নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সিআইডির বিশেষ প্রচেষ্টায় রহস্যের জট খুলেছে এবং জানা গেছে যে প্রাণীগুলো সুস্থ অবস্থাতেই ভারতের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছে। পাচার চক্রের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সদস্যদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সংরক্ষিত পার্কগুলো থেকে এ ধরনের মূল্যবান প্রাণী চুরি হয়ে বিদেশে পাচার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এটি পার্কের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তার ফাঁকফোকরকেই স্পষ্ট করে তোলে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে দেশের সকল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র ও সাফারি পার্কের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি, পাচারের শিকার লেমুর দুটিকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে।



































