ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন, গুজব-অপতথ্যে ১০ বছরের জেল Logo সিঁড়ির নিচ থেকে অত্যন্ত বিষধর ‘মনোক্লেড কোবরা’র ৫ বাচ্চা উদ্ধার Logo দ্বিগুণ থেকে চারগুণ দাম, কম্পিউটারের বাজারে আগুন লাগাল কে? Logo এপিবিএনকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দিয়ে বিল পাস Logo চীনে পণ্যবাহী জাহাজে আগুন, নিহত ২০ Logo এনজিও খুলে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ, জেলপলাতক আনিছ গ্রেফতার Logo র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠন, এপিবিএনের ক্ষমতা বৃদ্ধি Logo অভিবাসী ভেবে পাকিস্তানের যুব ক্রিকেটারদের ঘিরে বিক্ষোভ! Logo র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন বাহিনী এসআরবি: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo র‍্যাবের মতো আরেকটি বাহিনী গঠন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীদল

এপিবিএনকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দিয়ে বিল পাস

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশেষ বাহিনী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভূমিকা আরও জোরালো করতে নতুন একটি আইন পাস হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ এর মাধ্যমে এই বিশেষ বাহিনীকে আরও গুরুত্বপূর্ণ আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এই বাহিনী সাধারণ ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন এই আইন পাস হওয়ার ফলে এপিবিএন সদস্যদের কার্যক্রমের পরিধি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি সন্দেহভাজন স্থান ও ব্যক্তির ওপর তল্লাশি চালানোর আইনি ক্ষমতা অর্জন করেছে এই বাহিনী। শুধু তল্লাশিয়েই সীমাবদ্ধ নয়, অপরাধের তদন্তের স্বার্থে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় আলামত বা প্রমাণাদি জব্দ করার পূর্ণ এখতিয়ারও এখন তাদের হাতে রয়েছে। এর ফলে অপরাধের মূল উৎপাটন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত আইনি প্রমাণ সংগ্রহ করা বাহিনীর জন্য অনেক সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তল্লাশি ও আলামত জব্দের পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সরাসরি গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও যুক্ত হয়েছে এই বাহিনীর কার্যপরিধিতে। এতদিন এই ধরনের কার্যক্রমের জন্য মূলত অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হতো, যা অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতার জন্ম দিত। কিন্তু এখন থেকে এপিবিএন সদস্যরা নিজেরাই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। এই ক্ষমতার বলে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধ দমন কার্যক্রমে আরও বেশি গতিশীলতা আনতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক অপরাধ দমন কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ বাহিনীগুলোর মধ্যে কাজের সুনির্দিষ্ট পরিধি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হলে অপরাধীরা আর সহজে পার পেয়ে যেতে পারবে না। সংসদ কর্তৃক বিলটি পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে এপিবিএন-এর ওপর অর্পিত দায়িত্বের পরিধি যেমন বাড়ল, তেমনি জনগণের সুরক্ষায় তাদের জবাবদিহিতাও আরও সুদৃঢ় হলো। সার্বিক এই আইনি সংস্কার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর দীর্ঘমেয়াদে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন, গুজব-অপতথ্যে ১০ বছরের জেল

এপিবিএনকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দিয়ে বিল পাস

প্রকাশিত ০৭:০১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশেষ বাহিনী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভূমিকা আরও জোরালো করতে নতুন একটি আইন পাস হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ এর মাধ্যমে এই বিশেষ বাহিনীকে আরও গুরুত্বপূর্ণ আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এই বাহিনী সাধারণ ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন এই আইন পাস হওয়ার ফলে এপিবিএন সদস্যদের কার্যক্রমের পরিধি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি সন্দেহভাজন স্থান ও ব্যক্তির ওপর তল্লাশি চালানোর আইনি ক্ষমতা অর্জন করেছে এই বাহিনী। শুধু তল্লাশিয়েই সীমাবদ্ধ নয়, অপরাধের তদন্তের স্বার্থে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় আলামত বা প্রমাণাদি জব্দ করার পূর্ণ এখতিয়ারও এখন তাদের হাতে রয়েছে। এর ফলে অপরাধের মূল উৎপাটন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত আইনি প্রমাণ সংগ্রহ করা বাহিনীর জন্য অনেক সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তল্লাশি ও আলামত জব্দের পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সরাসরি গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও যুক্ত হয়েছে এই বাহিনীর কার্যপরিধিতে। এতদিন এই ধরনের কার্যক্রমের জন্য মূলত অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হতো, যা অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতার জন্ম দিত। কিন্তু এখন থেকে এপিবিএন সদস্যরা নিজেরাই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। এই ক্ষমতার বলে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধ দমন কার্যক্রমে আরও বেশি গতিশীলতা আনতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক অপরাধ দমন কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ বাহিনীগুলোর মধ্যে কাজের সুনির্দিষ্ট পরিধি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হলে অপরাধীরা আর সহজে পার পেয়ে যেতে পারবে না। সংসদ কর্তৃক বিলটি পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে এপিবিএন-এর ওপর অর্পিত দায়িত্বের পরিধি যেমন বাড়ল, তেমনি জনগণের সুরক্ষায় তাদের জবাবদিহিতাও আরও সুদৃঢ় হলো। সার্বিক এই আইনি সংস্কার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর দীর্ঘমেয়াদে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।