ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরায় এক বিদ্যালয়ে ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে!

যে বয়সে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা এবং বই-খাতা হাতে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়ে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৩ জন ছাত্রীকে জোরপূর্বক বা পরিস্থিতির শিকার বানিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হয়েছে। আইনগতভাবে বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও সমাজে এর প্রচলন এখনও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার ফলে ওই কিশোরী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চিরতরে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা তাদের সোনালী ভবিষ্যৎকে অন্ধকার ঠেলে দিচ্ছে।

শিশু বয়সে বৈবাহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণে এসব ছাত্রীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত কম বয়সে বিয়ে হলে প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত জটিলতা এবং পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া, দেশের প্রচলিত আইন কঠোর হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এতগুলো বাল্যবিয়ে গোপনে সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অভিভাবক এবং কাজীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে অকালে ঝরে পড়তে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

মাটি ছাড়াই কৃষির স্বপ্ন, ফেরদৌসের বাজিমাত

সাতক্ষীরায় এক বিদ্যালয়ে ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে!

প্রকাশিত ১০:৩১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে বয়সে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা এবং বই-খাতা হাতে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়ে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৩ জন ছাত্রীকে জোরপূর্বক বা পরিস্থিতির শিকার বানিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হয়েছে। আইনগতভাবে বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও সমাজে এর প্রচলন এখনও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার ফলে ওই কিশোরী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চিরতরে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা তাদের সোনালী ভবিষ্যৎকে অন্ধকার ঠেলে দিচ্ছে।

শিশু বয়সে বৈবাহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণে এসব ছাত্রীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত কম বয়সে বিয়ে হলে প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত জটিলতা এবং পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া, দেশের প্রচলিত আইন কঠোর হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এতগুলো বাল্যবিয়ে গোপনে সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অভিভাবক এবং কাজীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে অকালে ঝরে পড়তে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।