ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নবগঙ্গা নদীতে জমজমাট নৌকাবাইচ, উৎসবে মুখরিত পুরো এলাকা

মাগুরায় গ্রামীণ সংস্কৃতির এক সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধারা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে নবগঙ্গা নদীতে জমজমাট নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যকে চাক্ষুষ করতে নদীর দুই তীরে এবং এর ওপর নির্মিত সেতুতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাটি ঘিরে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।

উক্ত প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মোট ছয়টি সুসজ্জিত ও রঙিন নৌকা অংশ নেয়। সুশৃঙ্খলভাবে বৈঠা টানার চমৎকার ছন্দ এবং মাঝিদের সমবেত গানে পুরো নদীর অববাহিকা মুখরিত হয়ে ওঠে। এক নৌকা অন্য নৌকাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর মুহূর্তে দুই পাড়ের হাজারো দর্শক করতালিতে ফেটে পড়েন এবং উল্লাসে মেতে ওঠেন। সকাল থেকেই নদীর তীরে নানা বয়সের মানুষের উপস্থিতি এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।

এই মনোমুগ্ধকর আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মেহেরুনন্নাহার। প্রতিযোগিতা সমাপ্তির পর আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ী দলগুলোর হাতে বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শওকত মিয়া জানান, মূলত নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মেহেরুনন্নাহার বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষায় এমন সুস্থ বিনোদনমূলক আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় দশটি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় আগামীতেও এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: নুরুল হক

নবগঙ্গা নদীতে জমজমাট নৌকাবাইচ, উৎসবে মুখরিত পুরো এলাকা

প্রকাশিত ০৫:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাগুরায় গ্রামীণ সংস্কৃতির এক সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধারা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে নবগঙ্গা নদীতে জমজমাট নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যকে চাক্ষুষ করতে নদীর দুই তীরে এবং এর ওপর নির্মিত সেতুতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাটি ঘিরে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।

উক্ত প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মোট ছয়টি সুসজ্জিত ও রঙিন নৌকা অংশ নেয়। সুশৃঙ্খলভাবে বৈঠা টানার চমৎকার ছন্দ এবং মাঝিদের সমবেত গানে পুরো নদীর অববাহিকা মুখরিত হয়ে ওঠে। এক নৌকা অন্য নৌকাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর মুহূর্তে দুই পাড়ের হাজারো দর্শক করতালিতে ফেটে পড়েন এবং উল্লাসে মেতে ওঠেন। সকাল থেকেই নদীর তীরে নানা বয়সের মানুষের উপস্থিতি এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।

এই মনোমুগ্ধকর আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মেহেরুনন্নাহার। প্রতিযোগিতা সমাপ্তির পর আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ী দলগুলোর হাতে বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শওকত মিয়া জানান, মূলত নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মেহেরুনন্নাহার বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষায় এমন সুস্থ বিনোদনমূলক আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় দশটি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় আগামীতেও এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।