প্রকৃতির এক অপরূপ রূপবৈচিত্র্য নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়গুলোর কোলজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। মেঘে ঢাকা সবুজ পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে উৎপাদিত জুমের ধান পেকে যাওয়ার কারণে চারপাশের দৃশ্যপট এক উৎসবমুখর রূপ নিয়েছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই চাষাবাদ পদ্ধতি স্থানীয় অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পাহাড়ের গায়ে যেন কেউ সোনালি রঙের কোনো চাদর বিছিয়ে রেখেছে।
বর্ষার বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঝরনার প্রাকৃতিক পানির ওপর নির্ভর করেই মূলত এই জুম চাষ সম্পন্ন হয়ে থাকে। কোনো রকম আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এই ধান দেখতে যেমন চমৎকার, তেমনি এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণেও বেশ ভিন্নতা রয়েছে। পাহাড়ি কৃষকরা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এই পদ্ধতিতে জুমের জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানসহ নানা ধরনের শাকসবজি ফলিয়ে থাকেন। অনুক আবহাওয়া ও সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে এবার জুমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে বলে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।
পাহাড়ের ঢালু জমিতে জুম চাষ করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য হলেও কৃষকরা এই সময়ে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করেন। পরিবারের সব সদস্য মিলে দলবেঁধে ধান কাটার মহোৎসবে অংশ নেন এবং পাহাড়ি গান ও আনন্দের মধ্য দিয়ে ফসল ঘরে তোলেন। জুমের ধান কাটার এই সোনালি মৌসুম কেবল জীবিকার তাগিদেই নয়, বরং পাহাড়ি জনপদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দ উদযাপনে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে।
সবুজ পাহাড়ের বুকে সোনালি ধানের এই দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অনেক প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটক পার্বত্য অঞ্চলে ভিড় জমাচ্ছেন। পাহাড়ি অঞ্চলের এই অনন্য কৃষিসৌন্দর্য শুধু পর্যটনশিল্পকেই সমৃদ্ধ করছে না, বরং স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের গ্রামীণ অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করে তুলছে। পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা এবং জুম চাষের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট মহল থেকেও বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই সোনালি ধানের উৎসব পাহাড়ের মানুষের জীবনে নিয়ে এসেছে এক নতুন প্রাণের স্পন্দন।



































