ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিল্লিতে অভিষেক ঝড়, আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিলো ভারত

সম্প্রতি দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্তানকে পাত্তাই দেয়নি স্বাগতিক ভারত। ব্যাটে বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে সফরকারীদের ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে রোহিত-কোহলি পরবর্তী প্রজন্মের ভারতীয় দল। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে শুভসূচনা করেছে স্বাগতিকরা, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। টসে হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক শিবির এবং শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর চড়াও হন বোলাররা। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা তারকা পেসার জসপ্রিত বুমরাহ ও স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর অন্তর্ভুক্তি দলের বোলিং আক্রমণকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলে।

ম্যাচের একেবারে শুরুতেই আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কাটি দেন জসপ্রিত বুমরাহ। এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান ও সেদিকউল্লাহ অটল। ইনিংসের শুরুর দিকে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান দল। একপর্যায়ে মাত্র ৪৩ রান তুলতেই তাদের পাঁচ ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। তবে ষষ্ঠ উইকেটে আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং মোহাম্মদ নবীর দায়িত্বশীল জুটিতে বিপর্যয় সামলে ওঠে দলটি। ওমরজাইয়ের অনবদ্য ৬৪ এবং নবীর ৩৩ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় আফগানিস্তান। ভারতের পক্ষে অক্ষর প্যাটেল ও অর্শদীপ সিং বল হাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ওপেনার সাঞ্জু স্যামসনকে হারালেও কোনো চাপে পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের। তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মা ক্রিজে এসেই আফগান বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন। ফজলহক ফারুকি ও রশিদ খানদের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের ওভারগুলোতে একের পর এক দৃষ্টিনন্দন ছক্কা ও বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। তার মারমুখী ব্যাটিংয়ের সুবাদে পাওয়ারপ্লে ওভারগুলোতে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে দল। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা অভিষেক যেন তার ওপর থাকা সব আস্থার প্রতিদান ব্যাট হাতেই দিয়ে দিলেন। অপর প্রান্তে তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন ইশান কিশান, যিনি ৩২ বলে মূল্যবান ৪২ রান অবদান রাখেন।

দুজনের চমৎকার জুটি এবং বিশেষ করে অভিষেকের সাইক্লোন গতির ইনিংস খেলার পথকে অত্যন্ত সহজ করে দেয়। মাঠের চারদিকে শট খেলে মাত্র ৩২ বলে ৮২ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন অভিষেক শর্মা। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে মাত্র ১৩.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। এই জয়ে দলের ব্যাটিং গভীরতা ও তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নতুন করে আশা জাগিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। বল হাতে বোলারদের প্রত্যাবর্তন এবং ব্যাটে অভিষেকের ঝড়ো ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচটি ভারতীয় দলের জন্য একটি স্মরণীয় রাত হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয়

দশ জনের ম্যানসিটির কাছে হেরে গেল ইউনাইটেড

দিল্লিতে অভিষেক ঝড়, আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিলো ভারত

প্রকাশিত ০১:০১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আফগানিস্তানকে পাত্তাই দেয়নি স্বাগতিক ভারত। ব্যাটে বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে সফরকারীদের ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে রোহিত-কোহলি পরবর্তী প্রজন্মের ভারতীয় দল। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে শুভসূচনা করেছে স্বাগতিকরা, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। টসে হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক শিবির এবং শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর চড়াও হন বোলাররা। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা তারকা পেসার জসপ্রিত বুমরাহ ও স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর অন্তর্ভুক্তি দলের বোলিং আক্রমণকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলে।

ম্যাচের একেবারে শুরুতেই আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কাটি দেন জসপ্রিত বুমরাহ। এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান ও সেদিকউল্লাহ অটল। ইনিংসের শুরুর দিকে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান দল। একপর্যায়ে মাত্র ৪৩ রান তুলতেই তাদের পাঁচ ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। তবে ষষ্ঠ উইকেটে আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং মোহাম্মদ নবীর দায়িত্বশীল জুটিতে বিপর্যয় সামলে ওঠে দলটি। ওমরজাইয়ের অনবদ্য ৬৪ এবং নবীর ৩৩ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় আফগানিস্তান। ভারতের পক্ষে অক্ষর প্যাটেল ও অর্শদীপ সিং বল হাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ওপেনার সাঞ্জু স্যামসনকে হারালেও কোনো চাপে পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের। তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মা ক্রিজে এসেই আফগান বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন। ফজলহক ফারুকি ও রশিদ খানদের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের ওভারগুলোতে একের পর এক দৃষ্টিনন্দন ছক্কা ও বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। তার মারমুখী ব্যাটিংয়ের সুবাদে পাওয়ারপ্লে ওভারগুলোতে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে দল। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা অভিষেক যেন তার ওপর থাকা সব আস্থার প্রতিদান ব্যাট হাতেই দিয়ে দিলেন। অপর প্রান্তে তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন ইশান কিশান, যিনি ৩২ বলে মূল্যবান ৪২ রান অবদান রাখেন।

দুজনের চমৎকার জুটি এবং বিশেষ করে অভিষেকের সাইক্লোন গতির ইনিংস খেলার পথকে অত্যন্ত সহজ করে দেয়। মাঠের চারদিকে শট খেলে মাত্র ৩২ বলে ৮২ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন অভিষেক শর্মা। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে মাত্র ১৩.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। এই জয়ে দলের ব্যাটিং গভীরতা ও তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নতুন করে আশা জাগিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। বল হাতে বোলারদের প্রত্যাবর্তন এবং ব্যাটে অভিষেকের ঝড়ো ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচটি ভারতীয় দলের জন্য একটি স্মরণীয় রাত হয়ে থাকবে।