ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় আনসার সদস্যদের ওপর হামলা, আটক ৪

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা থামানোর চেষ্টার সময় হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন আনসার সদস্য। সম্প্রতি ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হট্টগোল ও মারধরের ঘটনা ঘটে। দায়িত্ব পালনকালে রোগীর সাথে আসা একদল তরুণের হামলায় মোট চারজন আনসার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন রাতে শহরের বৌবাজার এলাকায় সংঘটিত একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক তরুণ আহত হলে তার সঙ্গীরা তাকে চিকিৎসার জন্য শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর হাসপাতালের এক ট্রলিচালকের সাথে ওই যুবকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং ছয় থেকে সাতজন তরুণ মিলে ওই ট্রলিচালককে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করেন।

সহকর্মীকে রক্ষার্থে ও হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে যান এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষিপ্ত যুবকেরা আনসার সদস্যদের ওপরও চড়াও হয় এবং তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। আনসার কর্তৃপক্ষের দাবি, এই আকস্মিক ও সহিংস হামলায় তাদের সদস্যদের ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। আহত আনসার সদস্য শাহিনুর, মোস্তাফিজুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ও আজাদকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ এবং অতিরিক্ত আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং চার তরুণকে আটক করতে সক্ষম হন। আটককৃতরা হলো বোরহান উদ্দিন, তানভীর আহমেদ, সামির আহম্মেদ ও রিশাদ, যারা স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। বগুড়ার জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলাহ্ তুহিন জানিয়েছেন যে আহত সদস্যরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কামুক্ত আছেন। এছাড়া ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

জনপ্রিয়

বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করল বিসিবি

বগুড়ায় আনসার সদস্যদের ওপর হামলা, আটক ৪

প্রকাশিত ০২:৩১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা থামানোর চেষ্টার সময় হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন আনসার সদস্য। সম্প্রতি ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হট্টগোল ও মারধরের ঘটনা ঘটে। দায়িত্ব পালনকালে রোগীর সাথে আসা একদল তরুণের হামলায় মোট চারজন আনসার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন রাতে শহরের বৌবাজার এলাকায় সংঘটিত একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক তরুণ আহত হলে তার সঙ্গীরা তাকে চিকিৎসার জন্য শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর হাসপাতালের এক ট্রলিচালকের সাথে ওই যুবকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং ছয় থেকে সাতজন তরুণ মিলে ওই ট্রলিচালককে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করেন।

সহকর্মীকে রক্ষার্থে ও হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে যান এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষিপ্ত যুবকেরা আনসার সদস্যদের ওপরও চড়াও হয় এবং তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। আনসার কর্তৃপক্ষের দাবি, এই আকস্মিক ও সহিংস হামলায় তাদের সদস্যদের ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। আহত আনসার সদস্য শাহিনুর, মোস্তাফিজুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ও আজাদকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ এবং অতিরিক্ত আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং চার তরুণকে আটক করতে সক্ষম হন। আটককৃতরা হলো বোরহান উদ্দিন, তানভীর আহমেদ, সামির আহম্মেদ ও রিশাদ, যারা স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। বগুড়ার জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলাহ্ তুহিন জানিয়েছেন যে আহত সদস্যরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কামুক্ত আছেন। এছাড়া ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।