বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিগত দুটি আসরকে কেন্দ্র করে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি এই বিষয়টির দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত সম্পন্ন করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট কিছু অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় টুর্নামেন্ট পরিচালনার বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিসিবির গঠিত বিশেষ তদন্ত দল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখে। এর ফলশ্রুতিতে টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে অভিযুক্তদের অফিশিয়ালি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই বোর্ড এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিপিএলের শৃঙ্খলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল, যা টুর্নামেন্টের সুনামকে ক্ষুণ্ন করেছিল। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপে বোর্ডের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিসিবির এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ ঘরোয়া ক্রিকেটে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে যেকোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করবে এই নিষেধাজ্ঞা। বোর্ডের এমন কঠোর অবস্থানের ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাঠামো আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

































