কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার রাজপথে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলটির নেতাকর্মীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন। রাজধানীতে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা সৃষ্টি হতে না পারে, সেজন্য শুরু থেকেই সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত করার চক্রান্ত রুখে দিতে বিএনপি এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিগত সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ দলের এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ না দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। ফলস্বরূপ, সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে এবং প্রধান সড়কে খণ্ড খণ্ড মিছিল ও জমায়েত করতে দেখা গেছে দলটির নেতাকর্মীদের।
মাঠের এই কঠোর অবস্থানে কেবল বিএনপি নয়, বরং ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরাও সমানভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তারা নিজ নিজ এলাকার মোড়ে মোড়ে পাহারা বসানোর পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দূর করতে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক এই প্রতিরোধমূলক অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সারაკালীন এই সতর্ক অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো মূল্যে জনজীবন স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটানো অপচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়া। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।



































