ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার Logo স্কুলে নিকাব নিষিদ্ধের পথে ইতালি, বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার উদ্যোগ Logo যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo রাজশাহী স্টেশন ভাঙচুর, রেললাইনে আগুন দিল রাবি শিক্ষার্থীরা Logo আমার পা ধরে মা বিয়েটি করতে নিষেধ করেছিলেন: সুচিত্রা Logo আশুলিয়ায় কাভার্ড ভ্যানে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, নিহত ৬ Logo রাতে কী খাচ্ছেন, তার ওপর কি নির্ভর করছে ঘুম? Logo সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল Logo শিয়ালের মাংস, তক্ষক, জোঁকের তেল: রোগ সারানোর বিশ্বাস কতটা সত্য? Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের লকডাউন, শক্ত অবস্থানে বিএনপি

স্কুলে নিকাব নিষিদ্ধের পথে ইতালি, বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার উদ্যোগ

ইতালির শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও কঠোর নীতি আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। সম্প্রতি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার একটি জোরালো উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই নতুন সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেবল পোশাকের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে না, বরং অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপরও কিছু নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অভিবাসী অভিভাবকদের জন্য স্থানীয় ইতালীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের মতে, সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে অভিবাসীদের সম্পৃক্ত করতে এবং শিশুদের শিক্ষাজীবন সহজ করতে এই ভাষা শেখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির এই নীতিগুলো মূলত দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে অভিবাসীদের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্তগুলো নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। বিশেষ করে পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর বিষয়টি মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসছে।

আগামী দিনে এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং এর আইনি বা সামাজিক প্রতিক্রিয়া কী রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ইতালি সরকারের এই পদক্ষেপ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ বড় ধরনের আলোড়ন তুলেছে এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নীতিমালা চূড়ান্ত রূপ পেলে তা দেশটির বহুসংস্কৃতির সামাজিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয়

আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

স্কুলে নিকাব নিষিদ্ধের পথে ইতালি, বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার উদ্যোগ

প্রকাশিত ১০:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও কঠোর নীতি আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। সম্প্রতি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার একটি জোরালো উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই নতুন সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেবল পোশাকের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে না, বরং অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপরও কিছু নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অভিবাসী অভিভাবকদের জন্য স্থানীয় ইতালীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের মতে, সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে অভিবাসীদের সম্পৃক্ত করতে এবং শিশুদের শিক্ষাজীবন সহজ করতে এই ভাষা শেখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির এই নীতিগুলো মূলত দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে অভিবাসীদের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্তগুলো নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। বিশেষ করে পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর বিষয়টি মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসছে।

আগামী দিনে এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং এর আইনি বা সামাজিক প্রতিক্রিয়া কী রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ইতালি সরকারের এই পদক্ষেপ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ বড় ধরনের আলোড়ন তুলেছে এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নীতিমালা চূড়ান্ত রূপ পেলে তা দেশটির বহুসংস্কৃতির সামাজিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।