ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাপানে আশ্রয় চাইলেন উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য Logo বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ Logo জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বেরিয়ে গেলেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা Logo ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থাকে নিশ্চিহ্ন করতে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ চলছে: জর্ডান Logo এশিয়ান গেমসের জন্য দেশ ছাড়লেন লিটনরা Logo নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ফিরলেন এমএস নাও, সিএনএন ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা Logo ৩৪ বছর পর এই প্রথম কোনো শিশু জন্মাল প্রত্যন্ত এক স্কটিশ দ্বীপে Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে নিয়োগ পেলেন জাইমা রহমান Logo নাৎসি বন্দিশিবিরে অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে ১০৫ বছর বয়সী ব্যক্তি Logo ইরান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের

নাৎসি বন্দিশিবিরে অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে ১০৫ বছর বয়সী ব্যক্তি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির একটি কুখ্যাত যুদ্ধবন্দি শিবিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে এক শতবর্ষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির প্রসিকিউটররা। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বয়স বর্তমানে ১০৫ বছর এবং তিনি উত্তর-পশ্চিম জার্মানির সেন্নে এলাকায় অবস্থিত স্টালাগ ৩২৬ নামক বন্দিশিবিরে প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডর্টমুন্ডের পাবলিক প্রসিকিউটর সোনজা ফ্রোডারমান সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই শিবিরের আরেক সাবেক প্রহরীর বিরুদ্ধেও অনুরূপ অভিযোগের তদন্ত চলমান ছিল, তবে কিছুদিন আগে ৯৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় সেই মামলার সমাপ্তি ঘটে। প্রসিকিউটররা এই বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এই নতুন পদক্ষেপ নাৎসি আমলের যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় বর্তমান সময়ের জটিল ও কঠিন বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত বেশিরভাগ অভিযুক্তই ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। ফলে বেঁচে থাকা অতি অল্পসংখ্যক প্রবীণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বিচার বিভাগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও জার্মান আইন অনুযায়ী ১৯৭৯ সাল থেকে হত্যা কিংবা হত্যায় সহযোগিতার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণের বিধান রাখা হয়নি। এই আইনি কাঠামোর বলেই বহু দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরও নাৎসি আমলের নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হচ্ছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওই সময়ে সোভিয়েত রেড আর্মির প্রায় ৫৩ লাখের বেশি সেনাসদস্যকে বন্দি করেছিল জার্মানি এবং তাঁদের একটি বিশাল অংশ বন্দিদশায় নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। অভিযুক্ত প্রহরীর কর্মস্থল সেন্নের স্টালাগ শিবিরটি ছিল নাৎসি জার্মানির অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবন্দি শিবির। সংশ্লিষ্ট স্মৃতিসৌধের সংরক্ষিত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে নাৎসি ভূখণ্ডে প্রবেশ করা সোভিয়েত যুদ্ধবন্দিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এই শিবিরের বন্দিশালা দিয়ে নীত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এসব বন্দির একটি বড় অংশকে শিবিরের আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে জোরপূর্বক কঠিন শ্রমে নিয়োজিত করা হয়েছিল। সে সময় শিবিরটির অভ্যন্তরে বন্দিদের জীবনযাত্রার মান ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ এবং অমানবিক।

খাদ্যাভাব, অপুষ্টি, চিকিৎসাহীনতা এবং নিষ্ঠুর আচরণের শিকার হয়ে ওই শিবিরে বিপুলসংখ্যক বন্দি চিরতরে হারিয়ে যান। শিবিরটিতে নিবন্ধিত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ সোভিয়েত যুদ্ধবন্দির একটি বড় অংশ ক্ষুধা ও নির্যাতনে মারা যান এবং তাঁদের হাজার হাজার জনকে সেখানেই গণকবরে সমাহিত করা হয়। কেবল সোভিয়েত সেনারাই নন, বরং ফ্রান্স, পোল্যান্ড, সার্বিয়া এবং বেলজিয়ামের বিভিন্ন দেশের যুদ্ধবন্দিরাও এই শিবিরটিতে বন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। অতীতেও নাৎসি বন্দিশিবিরের প্রহরীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে ১০১ বছর বয়সি আরেক সাবেক শিবির প্রহরী ইয়োসেফ শ্যুৎসকে স্যাক্সেনহাউজেন বন্দিশিবিরে হত্যায় সহযোগিতার দায়ে আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছিল। তবে বয়সের ভারে ন্যুব্জ থাকায় তিনি কারাগারে যাননি এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই মারা যান।

জনপ্রিয়

জাপানে আশ্রয় চাইলেন উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য

নাৎসি বন্দিশিবিরে অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে ১০৫ বছর বয়সী ব্যক্তি

প্রকাশিত ১২:৩১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির একটি কুখ্যাত যুদ্ধবন্দি শিবিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে এক শতবর্ষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির প্রসিকিউটররা। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বয়স বর্তমানে ১০৫ বছর এবং তিনি উত্তর-পশ্চিম জার্মানির সেন্নে এলাকায় অবস্থিত স্টালাগ ৩২৬ নামক বন্দিশিবিরে প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডর্টমুন্ডের পাবলিক প্রসিকিউটর সোনজা ফ্রোডারমান সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই শিবিরের আরেক সাবেক প্রহরীর বিরুদ্ধেও অনুরূপ অভিযোগের তদন্ত চলমান ছিল, তবে কিছুদিন আগে ৯৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় সেই মামলার সমাপ্তি ঘটে। প্রসিকিউটররা এই বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত রয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এই নতুন পদক্ষেপ নাৎসি আমলের যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় বর্তমান সময়ের জটিল ও কঠিন বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত বেশিরভাগ অভিযুক্তই ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। ফলে বেঁচে থাকা অতি অল্পসংখ্যক প্রবীণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বিচার বিভাগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও জার্মান আইন অনুযায়ী ১৯৭৯ সাল থেকে হত্যা কিংবা হত্যায় সহযোগিতার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণের বিধান রাখা হয়নি। এই আইনি কাঠামোর বলেই বহু দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরও নাৎসি আমলের নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হচ্ছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওই সময়ে সোভিয়েত রেড আর্মির প্রায় ৫৩ লাখের বেশি সেনাসদস্যকে বন্দি করেছিল জার্মানি এবং তাঁদের একটি বিশাল অংশ বন্দিদশায় নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। অভিযুক্ত প্রহরীর কর্মস্থল সেন্নের স্টালাগ শিবিরটি ছিল নাৎসি জার্মানির অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবন্দি শিবির। সংশ্লিষ্ট স্মৃতিসৌধের সংরক্ষিত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে নাৎসি ভূখণ্ডে প্রবেশ করা সোভিয়েত যুদ্ধবন্দিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এই শিবিরের বন্দিশালা দিয়ে নীত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এসব বন্দির একটি বড় অংশকে শিবিরের আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে জোরপূর্বক কঠিন শ্রমে নিয়োজিত করা হয়েছিল। সে সময় শিবিরটির অভ্যন্তরে বন্দিদের জীবনযাত্রার মান ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ এবং অমানবিক।

খাদ্যাভাব, অপুষ্টি, চিকিৎসাহীনতা এবং নিষ্ঠুর আচরণের শিকার হয়ে ওই শিবিরে বিপুলসংখ্যক বন্দি চিরতরে হারিয়ে যান। শিবিরটিতে নিবন্ধিত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ সোভিয়েত যুদ্ধবন্দির একটি বড় অংশ ক্ষুধা ও নির্যাতনে মারা যান এবং তাঁদের হাজার হাজার জনকে সেখানেই গণকবরে সমাহিত করা হয়। কেবল সোভিয়েত সেনারাই নন, বরং ফ্রান্স, পোল্যান্ড, সার্বিয়া এবং বেলজিয়ামের বিভিন্ন দেশের যুদ্ধবন্দিরাও এই শিবিরটিতে বন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। অতীতেও নাৎসি বন্দিশিবিরের প্রহরীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে ১০১ বছর বয়সি আরেক সাবেক শিবির প্রহরী ইয়োসেফ শ্যুৎসকে স্যাক্সেনহাউজেন বন্দিশিবিরে হত্যায় সহযোগিতার দায়ে আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছিল। তবে বয়সের ভারে ন্যুব্জ থাকায় তিনি কারাগারে যাননি এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই মারা যান।