ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ Logo এমবাপ্পের গোলে তুরস্কের বিপক্ষে জয়, শুরু হলো ফ্রান্সে জিদান-যুগ Logo সরকারি মেডিকেল কলেজ: হাসপাতাল নেই ১২টিতে, ব্যবহারিক শিক্ষায় বাধা Logo নায়কের স্ত্রী পছন্দ করতেন না, সিনেমা থেকে বাদ পড়ার অদ্ভুত কারণ জানালেন তাপসী Logo ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা Logo সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে—পাকিস্তানি সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন জয়শঙ্করের Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক Logo নেতিবাচক মন্তব্য থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে চান জনপ্রিয় ব্যতিক্রমী দম্পতি Logo ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল, ইসলামাবাদে লকডাউন Logo ট্রাম্প-সি বৈঠকে অর্জন কম, ততেও কেন খুশি চীন

৩৪ বছর পর এই প্রথম কোনো শিশু জন্মাল প্রত্যন্ত এক স্কটিশ দ্বীপে

স্কটল্যান্ডের অত্যন্ত দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন নর্থ রোনাল্ডসে দ্বীপে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর একটি নতুন প্রাণের জন্ম হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ওই ছেলেশিশুটির নাম রাখা হয়েছে ডানকান ওয়াইল্ডার থর্সটেইন ট্রেইল সুয়ারেজ ফোর্ড। শিশুটির মা অ্যালিস ট্রেইল ফোর্ড সংবাদমাধ্যমের কাছে এই খুশির খবর নিশ্চিত করেছেন। স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের সর্বউত্তরে অবস্থিত এই দ্বীপটি মাত্র তিন মাইল লম্বা ও দুই মাইল চওড়া। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দ্বীপটির জনসংখ্যা অত্যন্ত কম হলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র একান্ন জন মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

শিশুটির মা অ্যালিস ও তাঁর বাগ্‌দত্তা হোর্হে সুয়ারেজ মূলত কোস্টারিকা এবং এই দ্বীপের মধ্যে নিজেদের সময় ভাগ করে বসবাস করেন। তাঁদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল কোস্টারিকাতেই সন্তান প্রসব করার এবং সেই অনুযায়ী ফেরার বিমান টিকিটও কাটা ছিল। কিন্তু দ্বীপে পা রাখার পর অ্যালিস হঠাৎ করেই তাঁর পূর্বের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, নিজের এই পৈতৃক মাটিতে সন্তান জন্ম দেওয়াটাই হবে জীবনের সবচেয়ে বিশেষ ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। উল্লেখ্য, অ্যালিসের পরিবার ১৭২৭ সালে দ্বীপটির মালিকানা অর্জন করেছিল এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি নিয়মিত সেখানে সময় কাটিয়ে আসছেন।

পূর্বপুরুষের তৈরি ঐতিহাসিক হল্যান্ড হাউসেই নবজাতকের জন্ম দেন অ্যালিস, যার সঙ্গে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। দ্বীপটির সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান এমন যে, তিনি অনুভব করেন দ্বীপটিই তাঁকে তিল তিল করে বড় করে তুলেছে। দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর দ্বীপে শিশু জন্মের এই বিরল ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের এই আনন্দ উদযাপনের অংশীদার করতে অ্যালিস বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করেন। সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে চার পাতার ক্লোভার ও স্থানীয় সামুদ্রিক খোলস দিয়ে সাজানো ছোট হুইস্কির বোতল তিনি প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণ করেন।

দীর্ঘকাল এখানে কোনো শিশু জন্ম না নেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বীপটিতে কোনো হাসপাতাল বা স্থায়ী চিকিৎসক নেই, সেবিকা হিসেবে আছেন কেবল একজন আবাসিক নার্স। জরুরি কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিলে কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার অথবা জলপথে প্রায় তিন ঘণ্টা ভ্রমণ করে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে হয়। এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও চিকিৎসাগত ঝুঁকির কারণেই সাধারণ মানুষ সাধারণত দ্বীপের বাইরে সন্তান প্রসব করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফলে এই নবজাতকের আগমন কেবল একটি পরিবারের জন্যই নয়, বরং সমগ্র নর্থ রোনাল্ডসে দ্বীপবাসীর কাছে একটি ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয়

‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’

৩৪ বছর পর এই প্রথম কোনো শিশু জন্মাল প্রত্যন্ত এক স্কটিশ দ্বীপে

প্রকাশিত ০১:০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কটল্যান্ডের অত্যন্ত দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন নর্থ রোনাল্ডসে দ্বীপে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর একটি নতুন প্রাণের জন্ম হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ওই ছেলেশিশুটির নাম রাখা হয়েছে ডানকান ওয়াইল্ডার থর্সটেইন ট্রেইল সুয়ারেজ ফোর্ড। শিশুটির মা অ্যালিস ট্রেইল ফোর্ড সংবাদমাধ্যমের কাছে এই খুশির খবর নিশ্চিত করেছেন। স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের সর্বউত্তরে অবস্থিত এই দ্বীপটি মাত্র তিন মাইল লম্বা ও দুই মাইল চওড়া। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দ্বীপটির জনসংখ্যা অত্যন্ত কম হলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র একান্ন জন মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

শিশুটির মা অ্যালিস ও তাঁর বাগ্‌দত্তা হোর্হে সুয়ারেজ মূলত কোস্টারিকা এবং এই দ্বীপের মধ্যে নিজেদের সময় ভাগ করে বসবাস করেন। তাঁদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল কোস্টারিকাতেই সন্তান প্রসব করার এবং সেই অনুযায়ী ফেরার বিমান টিকিটও কাটা ছিল। কিন্তু দ্বীপে পা রাখার পর অ্যালিস হঠাৎ করেই তাঁর পূর্বের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, নিজের এই পৈতৃক মাটিতে সন্তান জন্ম দেওয়াটাই হবে জীবনের সবচেয়ে বিশেষ ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। উল্লেখ্য, অ্যালিসের পরিবার ১৭২৭ সালে দ্বীপটির মালিকানা অর্জন করেছিল এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি নিয়মিত সেখানে সময় কাটিয়ে আসছেন।

পূর্বপুরুষের তৈরি ঐতিহাসিক হল্যান্ড হাউসেই নবজাতকের জন্ম দেন অ্যালিস, যার সঙ্গে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। দ্বীপটির সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান এমন যে, তিনি অনুভব করেন দ্বীপটিই তাঁকে তিল তিল করে বড় করে তুলেছে। দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পর দ্বীপে শিশু জন্মের এই বিরল ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের এই আনন্দ উদযাপনের অংশীদার করতে অ্যালিস বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করেন। সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে চার পাতার ক্লোভার ও স্থানীয় সামুদ্রিক খোলস দিয়ে সাজানো ছোট হুইস্কির বোতল তিনি প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণ করেন।

দীর্ঘকাল এখানে কোনো শিশু জন্ম না নেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বীপটিতে কোনো হাসপাতাল বা স্থায়ী চিকিৎসক নেই, সেবিকা হিসেবে আছেন কেবল একজন আবাসিক নার্স। জরুরি কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিলে কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার অথবা জলপথে প্রায় তিন ঘণ্টা ভ্রমণ করে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে হয়। এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও চিকিৎসাগত ঝুঁকির কারণেই সাধারণ মানুষ সাধারণত দ্বীপের বাইরে সন্তান প্রসব করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফলে এই নবজাতকের আগমন কেবল একটি পরিবারের জন্যই নয়, বরং সমগ্র নর্থ রোনাল্ডসে দ্বীপবাসীর কাছে একটি ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।