ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত বা উত্তেজনা তৈরির পরিকল্পনা মস্কোর নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি ইউরোপীয় অঞ্চলের কিছু দেশ রাশিয়ার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার যে সতর্কবার্তা প্রচার করে আসছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। পুতিন জোরালোভাবে বলেন যে ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে বৈরিতা বাড়ানোর পেছনে রাশিয়ার কোনো প্রকার যৌক্তিক বা বাস্তবসম্মত কারণ নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার ভূরাজনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো নিয়মিতভাবে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে। তবে মস্কো বরাবরই এই ধরনের দাবিকে ভিত্তিহীন ও অপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করছেন এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছেন। অথচ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে রাশিয়া সবসময়ই প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখাই মস্কোর প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান কূটনৈতিক উত্তাপ কিছুটা হলেও কমাতে সহায়তা করতে পারে। ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি এমন বার্তার মাধ্যমে রাশিয়া মূলত কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চাইছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা আগামীতে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।































