ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি মামলা প্রস্তুতির নির্দেশ নেতানিয়াহুর Logo রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে হলান্ডের নরওয়েকে হারাল পর্তুগাল Logo উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ: প্রকল্পজটে ৬১% কমেছে ঋণছাড় Logo ২৬ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে ৫০ হাজার গাছের বনে পরিণত করলেন এক নারী Logo জিয়াউল আহসানের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হতে পারে অক্টোবরে: প্রসিকিউটর মিজানুল Logo নামফলকে নিজের নাম দেখে ফলক উন্মোচন করেননি হাসনাত আবদুল্লাহ, আলোচনা-সমালোচনা Logo ট্রাম্প-শি বৈঠকে সমঝোতা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রে আসবে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি: বিশ্লেষকরা Logo দোয়া কি শুধু আরবিতেই করতে হবে Logo ইসরাইলি সরকারের মদদে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজিরবিহীন সহিংসতা: ফ্রান্স Logo কোহলির রেকর্ডের রাতে দুর্দান্ত জয় ভারতের

২৬ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে ৫০ হাজার গাছের বনে পরিণত করলেন এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রোনাল্ড সাকলস্কির দেওয়া সামান্য আর্থিক সহায়তায় চীনের এক নারী কৃষক ২৬ বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে মরুভূমিকে বিশাল সবুজ বনে রূপান্তর করেছেন। ১৯৯৯ সালে চীনের হেনান প্রদেশে ইংরেজি শেখানোর সময় সাকলস্কি টেলিভিশনে ইননার মঙ্গোলিয়ার মু উস মরুভূমিতে ইয়িন ইউঝেন নামের ওই নারীর বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ দেখতে পান। মূলত নতুন বিবাহিত জীবনে মরুভূমির চরম একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতেই ইয়িন নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানোর কঠিন কাজটি শুরু করেছিলেন।

সেই সময় ইয়িনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহসিকতার গল্পে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকলস্কি প্রায় ৫ হাজার ডলার সংগ্রহ করে তাকে পাঠান, যা ছিল ওই নারীর তৎকালীন বার্ষিক আয়ের কয়েক গুণেরও বেশি। ২০০০ সালে এই দুই পরোপকারী মানুষের প্রথম সাক্ষাতের সময় ইয়িন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি ও তার পরিবার পরম যত্নে এই গাছগুলো লালন-পালন করবেন। সম্প্রতি ৬৯ বছর বয়সী সাকলস্কি ২৬ বছর দীর্ঘ ব্যবধানের পর প্রথমবারের মতো সশরীরে সেই এলাকা পরিদর্শনে যান।

সেখানে গিয়ে আমেরিকান এই শিক্ষক দেখতে পান যে একসময়ের রুক্ষ ও বিস্তীর্ণ মরুভূমি প্রায় ৫০ হাজার পূর্ণবয়স্ক গাছের এক সমৃদ্ধ বনে পরিণত হয়েছে, যার অনেকগুলো গাছের উচ্চতা এখন ৩০ ফুটেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। নিজের চোখে মরুভূমির এই রূপান্তর দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি একে জীবনের অন্যতম বড় বিস্ময় বলে অভিহিত করেন। এর আগে তিনি ছবি ও বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে বনের কথা জানলেও স্বচক্ষে দেখার পর এই অভাবনীয় পরিবর্তনের আসল সত্যতা অনুধাবন করতে পেরেছেন।

চলতি বছরের শুরুতে ইয়িন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ প্রচারণা চালিয়ে দীর্ঘদিনের পরিচিত সাকলস্কির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর ১০ দিনের সফরে চীনে গিয়ে সাকলস্কি বনের মধ্যে ইয়িনের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলনে অংশ নেন এবং তারা সেখানে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি বন্ধুত্বের গাছ রোপণ করেন। সফরকালে ইয়িন তাকে একটি বিশেষ ক্রস-স্টিচ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি সাকলস্কি নিজের স্মৃতির জন্য ওই এলাকার এক বয়াম বালু সঙ্গে নিয়ে যান।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জনগণের বন্ধুত্বের এই অনন্য উদাহরণটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটির সরকারি মহল। চীনের শীর্ষ নেতৃত্বও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই দুই ব্যক্তির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং দুই দেশের সাধারণ মানুষের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইয়িন ইউঝেন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান যে তিনি নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং তাদের এই বন্ধুত্বের গাছ আগামী ২৬ বছর পরও একইভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

জনপ্রিয়

এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি মামলা প্রস্তুতির নির্দেশ নেতানিয়াহুর

২৬ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে ৫০ হাজার গাছের বনে পরিণত করলেন এক নারী

প্রকাশিত ০৫:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রোনাল্ড সাকলস্কির দেওয়া সামান্য আর্থিক সহায়তায় চীনের এক নারী কৃষক ২৬ বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে মরুভূমিকে বিশাল সবুজ বনে রূপান্তর করেছেন। ১৯৯৯ সালে চীনের হেনান প্রদেশে ইংরেজি শেখানোর সময় সাকলস্কি টেলিভিশনে ইননার মঙ্গোলিয়ার মু উস মরুভূমিতে ইয়িন ইউঝেন নামের ওই নারীর বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ দেখতে পান। মূলত নতুন বিবাহিত জীবনে মরুভূমির চরম একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতেই ইয়িন নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানোর কঠিন কাজটি শুরু করেছিলেন।

সেই সময় ইয়িনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহসিকতার গল্পে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকলস্কি প্রায় ৫ হাজার ডলার সংগ্রহ করে তাকে পাঠান, যা ছিল ওই নারীর তৎকালীন বার্ষিক আয়ের কয়েক গুণেরও বেশি। ২০০০ সালে এই দুই পরোপকারী মানুষের প্রথম সাক্ষাতের সময় ইয়িন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি ও তার পরিবার পরম যত্নে এই গাছগুলো লালন-পালন করবেন। সম্প্রতি ৬৯ বছর বয়সী সাকলস্কি ২৬ বছর দীর্ঘ ব্যবধানের পর প্রথমবারের মতো সশরীরে সেই এলাকা পরিদর্শনে যান।

সেখানে গিয়ে আমেরিকান এই শিক্ষক দেখতে পান যে একসময়ের রুক্ষ ও বিস্তীর্ণ মরুভূমি প্রায় ৫০ হাজার পূর্ণবয়স্ক গাছের এক সমৃদ্ধ বনে পরিণত হয়েছে, যার অনেকগুলো গাছের উচ্চতা এখন ৩০ ফুটেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। নিজের চোখে মরুভূমির এই রূপান্তর দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি একে জীবনের অন্যতম বড় বিস্ময় বলে অভিহিত করেন। এর আগে তিনি ছবি ও বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে বনের কথা জানলেও স্বচক্ষে দেখার পর এই অভাবনীয় পরিবর্তনের আসল সত্যতা অনুধাবন করতে পেরেছেন।

চলতি বছরের শুরুতে ইয়িন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ প্রচারণা চালিয়ে দীর্ঘদিনের পরিচিত সাকলস্কির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর ১০ দিনের সফরে চীনে গিয়ে সাকলস্কি বনের মধ্যে ইয়িনের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলনে অংশ নেন এবং তারা সেখানে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি বন্ধুত্বের গাছ রোপণ করেন। সফরকালে ইয়িন তাকে একটি বিশেষ ক্রস-স্টিচ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি সাকলস্কি নিজের স্মৃতির জন্য ওই এলাকার এক বয়াম বালু সঙ্গে নিয়ে যান।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জনগণের বন্ধুত্বের এই অনন্য উদাহরণটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটির সরকারি মহল। চীনের শীর্ষ নেতৃত্বও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই দুই ব্যক্তির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং দুই দেশের সাধারণ মানুষের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইয়িন ইউঝেন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান যে তিনি নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং তাদের এই বন্ধুত্বের গাছ আগামী ২৬ বছর পরও একইভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।